ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমতি লাগবে না: ট্রাম্প

আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে মার্কিন কংগ্রেসের কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১ মে) ইরান যুদ্ধের ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দিন তিনি এই দাবি করেন। ট্রাম্পের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক রীতি এবং ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশের মাটিতে মার্কিন সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালানো যায় না। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রেসিডেন্টের একতরফা যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করতে এই আইন করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প এই আইনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তার মতে, "অতীতের অনেক প্রেসিডেন্ট এই বিধান মানেননি এবং এটি কখনোই সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।"

ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে হোয়াইট হাউজ একটি নতুন যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে ইরানের সাথে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তার ফলে ৬০ দিনের এই আইনি সময়সীমা গণনা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে গেছে। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাট এবং অনেক আইনি বিশেষজ্ঞ এই যুক্তিকে আইনের অপব্যাখ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি থাকলেও সামরিক অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আইনি বাধ্যবাধকতা বজায় থাকে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, রোনাল্ড রিগ্যান (লেবানন) এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ (ইরাক ও আফগানিস্তান) যুদ্ধের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিল ক্লিনটন (কসোভো) এবং বারাক ওবামা (লিবিয়া) কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়াই অভিযান চালিয়েছিলেন। ট্রাম্প এখন সেই সব উদাহরণ টেনে নিজের ক্ষমতা জাহির করতে চাইছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার এই সময়ে ট্রাম্পের এমন অবস্থান যুদ্ধের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এই ঘোষণা কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত