ইরানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন এবং রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবি তুলে আন্দোলন করছে।
রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে, এমনকি একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
মেহর নিউজ এজেন্সি এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ জনতা সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর করার পাশাপাশি একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় বিক্ষোভকারীদের হাতে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবপূর্ব আমলের জাতীয় পতাকা দেখা গেছে।
৬০ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী নিউইয়র্ক টাইমসকে মসজিদে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বিবিসি ফার্সি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ ও মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিচ্ছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সতর্কবার্তায় অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা তাদের সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে না দেন।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, সংঘর্ষ বা গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ তার দায়ভার নেবে না।
অন্যদিকে, হতাহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তেহরানের একজন চিকিৎসক 'টাইম' সাময়িকীকে জানিয়েছেন যে, কেবল রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালেই ২১৭ জনের মরদেহ এসেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে। তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এই উচ্চ মৃত্যুহারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ইরানে বিক্ষোভ: তেহরানের ৬ হাসপাতালেই ২ শতাধিক মৃত্যুর দাবি
