লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মেরিনট্রাফিক’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের উপস্থিতি নেই। আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা জাহাজ চলাচল ধীর করে দেয় এবং পরবর্তীতে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে। এমনকি এই পথ দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা একটি জাহাজকেও মাঝপথ থেকে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
বুধবার লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ১০০টি স্থানে বোমা বর্ষণ করা হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, এই রক্তক্ষয়ী হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর লেবানন এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি আর হয়নি। বিশেষ করে রাজধানী বৈরুতের বেসামরিক এলাকাগুলোতে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ায় সীমিত পরিসরে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছিল। ইরানের দাবি, এই চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ রাখা। তবে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লেবাননের পরিস্থিতি এই চুক্তির অংশ নয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা বন্ধ না করে তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেবে। সংঘাতের এই নতুন মাত্রা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা
খোলার পথে হরমুজ প্রণালি, নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিকল্প রুট ঘোষণা 
