মধ্যপ্রাচ্যে ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে নাটকীয় মোড় নিয়েছে ইরান। সমুদ্রপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তন করে এটি আবার বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলেই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর যে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে, তা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তারা এই অবরোধকে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। বিবৃতিতে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে থাকা জাহাজগুলোকে নোঙর না তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে, প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া মানেই ‘শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা’ হিসেবে গণ্য হবে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, শনিবার ইরানি গানবোট থেকে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের দিকে গুলি ছোড়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি পতাকাবাহী জাহাজ ‘গুলিবর্ষণের’ মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ওয়াশিংটনকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা যাবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে চলমান যুদ্ধবিরতি বাতিল করা হবে এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ আরও কঠোরভাবে বহাল থাকবে।
২৪ ঘণ্টা আগেও বিশ্বনেতারা ইরানের প্রণালি খোলার সিদ্ধান্তকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছিলেন। কিন্তু তেহরানের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আবার আগের উত্তপ্ত অবস্থায় ফিরে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তাদের নৌবাহিনী শত্রুদের ওপর ‘নতুন তিক্ত পরাজয়’ চাপিয়ে দিতে প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় ২ জাহাজে গুলি, ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব
মার্কিন অবরোধ না ওঠা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ: আইআরজিসি
ইরানকে ব্ল্যাকমেইল করতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প