মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। এরই অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং অঞ্চলের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক উপায়ে চলমান সংকট সমাধানের উপায়গুলো এই আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। আরাগচি উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলোর গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
একই দিনে আব্বাস আরাগচি মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন। একের পর এক এই ফোনালাপগুলোকে বিশ্লেষকরা ইরানের ‘ডিপ্লোম্যাটিক অফেন্সিভ’ বা কূটনৈতিক তৎপরতা হিসেবে দেখছেন। নেদারল্যান্ডস যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং আন্তর্জাতিক আদালতের কেন্দ্রস্থল, তাই তাদের সঙ্গে ইরানের এই যোগাযোগকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলা—এই দুই সংকটের মাঝে ইরান ইউরোপীয় দেশগুলোকে ব্যবহার করে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির ট্রানজিট নিয়ে যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোর মধ্যস্থতা তেহরানের জন্য সহায়ক হতে পারে। এই ফোনালাপের মাধ্যমে ইরান সম্ভবত ইউরোপকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, তারা এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী, তবে তাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। সূত্র: আলজাজিরা