ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রাথমিক লক্ষ্য থেকে সরে এসে কার্যত পরাজয় মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে নতুন ‘যুদ্ধের ভূগোল’ হিসেবে বর্ণনা করে ওয়াশিংটন ইরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তেহরান কৌশলগত জলপথটির ওপর চাপ বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।
রোববার (৯ আগস্ট) তেহরানে দেওয়া বক্তব্যে মোহেব্বি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ এমন একটি সংঘাত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। তার দাবি, সংঘাতের শুরুতে ওয়াশিংটন যে বিস্তৃত সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, সেগুলো থেকে দ্রুত সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানি এই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মূলত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত রয়েছে।
মোহেব্বির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র তার কল্পিত ও নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো থেকে দ্রুত পিছিয়ে এসে ক্রমাগত কমে আসা লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে। ইরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তেহরানের এই কৌশল অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হরমুজ প্রণালিকে নতুন ‘যুদ্ধের ভূগোল’ হিসেবে উল্লেখ করে মোহেব্বি বোঝাতে চান, সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে এই জলপথই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চাপ প্রয়োগের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
ইরানের এই মূল্যায়নের সঙ্গে কিছু মার্কিন বিশ্লেষকের মতেরও মিল রয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনে মে মাসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে রবার্ট কাগান, মাইকেল ও’হ্যানলন ও মেলানি সিসন যুক্তি দেন, যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আগের তুলনায় আরও দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষক রবার্ট কাগান পরবর্তী এক আলোচনায় বলেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় শুধু সম্ভবই নয়, বরং সম্ভাবনাও বেশি। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন মিয়ারশাইমারও জুলাইয়ের এক মূল্যায়নে আরও সরাসরি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই যুদ্ধে হেরে গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে এমন মূল্যায়ন সর্বসম্মত নয়। ইরানের পক্ষ থেকে নিজেদের কৌশলগত সাফল্যের যে দাবি করা হচ্ছে, তার পাশাপাশি সংঘাতের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বর্ণনায় বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সূত্র: তেহরান টাইমস
মোজতবা খামেনি পুরোপুরি সুস্থ, পেজেশকিয়ানের দাবি
অন্ধকারেও দাবা খেলতে জানে ইরান: বাঘাই
ইসরায়েলের ভান্ডারে নতুন সংযোজন জার্মান সাবমেরিন 'আইএনএস ড্রাকন'