নাবাতিয়া পাহাড়ে যুদ্ধের ছায়া, কূটনীতির দাবার ছক

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়া শহরের ওপর প্রায় ৬০০ মিটার উঁচু আলি আল-তাহের পাহাড়শ্রেণি এতদিন ছিল নিছক এক টুকরো উঁচু ভূমি। কিন্তু ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ছায়ায় এই পাহাড়ি অঞ্চল এখন হয়ে উঠেছে সামরিক লক্ষ্যবস্তু, রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার এবং লেবানন সীমান্তের উত্তরে নিরাপত্তা বলয় নতুন করে সাজানোর এক পরীক্ষাক্ষেত্র।

ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক মহল ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে আসতে পারে কয়েক দিনের তীব্র লড়াই, যার কেন্দ্রবিন্দু হবে আলি আল-তাহের ও নিকটবর্তী বোফোর্ট দুর্গ এলাকা। ইসরায়েলি দাবি অনুযায়ী, এই পাহাড়ের নিচে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় লুকিয়ে আছে হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন যোদ্ধা, এবং সরবরাহ বন্ধ করতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি বাহিনী।

তবে হিজবুল্লাহর দাবি ভিন্ন। বারবার ভারী গোলাবর্ষণ, এমনকি ফসফরাস শেলের ব্যবহার সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী পাহাড়ের অভ্যন্তরে ঢুকতে পারেনি বলে সংগঠনটির দাবি। এই পরস্পরবিরোধী বয়ান একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে, ইসরায়েল কি কেবল হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করতে চায়, নাকি দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে?

এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক লড়াই, থমকে থাকা আলোচনা এবং বৈরুতে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্য দিয়ে,আশঙ্কা করা হচ্ছে, রণক্ষেত্রের অর্জন একসময় রাজনৈতিক চাপে রূপান্তরিত হতে পারে।

নাবাতিয়ার ওপর কৌশলগত অবস্থান

আলি আল-তাহের পাহাড়শ্রেণির অবস্থান নাবাতিয়া প্রদেশে, কাফার তিবনিত ও নাবাতিয়া আল-ফাওকার মাঝামাঝি, লিতানি নদীর উত্তরে এবং ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে ইসরায়েলের সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও এই পাহাড় নাবাতিয়া, ইকলিম আল-তুফফাহ ও লিতানি অববাহিকার বড় অংশের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখে বলে এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।

লেবানিজ সেনাবাহিনীর দক্ষিণ লিতানি অঞ্চলের সাবেক অভিযান কমান্ডার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খলিল জেমাইয়েল আরব নিউজকে জানান, এই এলাকায় মূলত তিনটি পাহাড়-আলি আল-তাহের, দাবশা ও তুহরা, মিলে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও দেড় কিলোমিটার প্রশস্ত একটি শৈলশিরা তৈরি করেছে। পশ্চিম দিকে রয়েছে কাফার তিবনিত, নাবাতিয়া আল-ফাওকা, নাবাতিয়া ও কাফার রুম্মানের মতো জনবহুল এলাকা, আর পূর্বদিক তুলনামূলক জনবিরল।

২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় ইসরায়েল সবশেষে যেসব অবস্থান ছেড়েছিল, তার মধ্যে এই পাহাড়ও ছিল। জেমাইয়েলের ভাষ্যমতে, নাবাতিয়া ও আশপাশের গ্রামগুলোর পাশাপাশি জেজিনের দিকে যাওয়ার পূর্বাঞ্চলীয় পথও নজরদারিতে রাখে এই উচ্চভূমি, আর এখানেই সম্ভবত হিজবুল্লাহর দক্ষিণাঞ্চলীয় কেন্দ্রীয় কমান্ড সদর দপ্তর অবস্থিত।

তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে শৈলশিরা বরাবর অবস্থান নিয়ে আলি আল-তাহের চূড়া নিয়ন্ত্রণ করছে এবং দাবশা পর্যন্ত পৌঁছালেও গভীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। তার ভাষায়, ব্যয়বহুল হওয়ায় ইসরায়েলি সেনারা এগিয়ে গিয়ে লড়াই উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেও দ্রুত থেমে যায় এবং মূলত পুনরুদ্ধারকারী রোবটের ওপর নির্ভর করছে, পাশাপাশি শৈলশিরা বরাবর সামরিক সড়ক ও দুর্গ নির্মাণ করছে তারা।

পাহাড়ের নিচে লুকানো রহস্য

ইসরায়েলি প্রতিবেদনে বারবার উঠে এসেছে ‘ইমাদ ৪’ নামের একটি স্থাপনার কথা, যাকে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোর একটি বলে দাবি করা হচ্ছে। আগের যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহ একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনার ফুটেজ প্রকাশ করেছিল, যদিও এর অবস্থান জানানো হয়নি। ইসরায়েলি বিভিন্ন সূত্র এই নেটওয়ার্কের একাংশকে ‘ভূগর্ভস্থ শহর’ বলেও উল্লেখ করেছে।

হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আরব নিউজকে জানায়, আলি আল-তাহের এলাকায় সংগঠনটির সামরিক উপস্থিতি আছে, তবে পাহাড়ের নিচে ঠিক কী আছে সে বিষয়ে ইসরায়েলি বর্ণনা নিশ্চিত করেনি তারা। সূত্রটির মতে, ইসরায়েলের কাছে যদি সত্যিই নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য থাকত, তাহলে শুধু বোমাবর্ষণ চালিয়ে লেবানিজ সেনাবাহিনীকে এলাকায় ঢোকার জন্য চাপ না দিয়ে তারা নিজেরাই পাহাড় দখল করে নিত।

হিজবুল্লাহ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এই পাহাড় লেবানিজ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার ইসরায়েলি দাবি। কারণ সংগঠনটির মতে, তা করার অর্থ হবে লিতানি নদীর উত্তরে নিজেদের অস্ত্র সমর্পণ মেনে নেওয়া, এমন এক নজির, যা ভবিষ্যতে আরও ইসরায়েলি দাবি ডেকে আনতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

থমকে থাকা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া

গত ২ মার্চ সংঘর্ষের সময় বোফোর্ট দুর্গের কাছে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অগ্রযাত্রা থমকে যায়। এরপর ১৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। একটি লেবানিজ সামরিক সূত্র জানায়, এই যুদ্ধবিরতি নাবাতিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে আলি আল-তাহের ঘিরে ফেলে পুরো পাহাড় দখলের ইসরায়েলি পরিকল্পনা রুখে দিয়েছিল। বোফোর্ট দুর্গ থেকে এই এলাকার দূরত্ব মাত্র ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার।

এরপর ওয়াশিংটন ও রোমে সাত দফা সরাসরি লেবানিজ-ইসরায়েলি আলোচনা হলেও দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি স্থল ও আকাশপথে অভিযান অব্যাহত থাকে, মাঝেমধ্যে যা বৈরুত ও বেকা উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। গত সপ্তাহান্তে আলি আল-তাহের এলাকায় ড্রোন হামলায় তিন ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও তীব্র হয়, যদিও হিজবুল্লাহ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

জবাবে ইসরায়েল একের পর এক হামলা চালায়, যাতে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নারী ও শিশুসহ ১১ জন নিহত হন। ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, পাহাড় ঘিরে বড় ধরনের কোনো অভিযান চালাতে হলে প্রয়োজন হবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদন।

বৈরুতে লেবানিজ কর্মকর্তাদের ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সম্পূর্ণভাবে ঠেকাতে না পারলেও যেকোনো অভিযান যেন সীমিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে থাকে, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমে এবং চলমান আলোচনার কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকে তা নিশ্চিত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।

কেন শুধু প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়

উপগ্রহ, ড্রোন, ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান আর নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র থাকার পরও ইসরায়েলের একটি পাহাড় দখলের এত মরিয়া চেষ্টার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন লেবাননের সামরিক আদালতের সাবেক প্রধান ও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক পুলিশের সাবেক কমান্ডার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুনির শেহাদেহ। তার মতে, ভূখণ্ড পর্যবেক্ষণ করা আর তার ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা, এ দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক।

শেহাদেহ আরব নিউজকে বলেন, উঁচু ভূমির নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলকে এমন কিছু দেয় যা কোনো প্রযুক্তিই দিতে পারে না, লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে স্থায়ী ভৌত উপস্থিতি। এর মাধ্যমে নাবাতিয়া, ইকলিম আল-তুফফাহ ও জাবাল আল-রিহানের চারপাশে চলাচলের ওপর আরও ভালো নজরদারি পাওয়া যাবে, পাশাপাশি স্থল-ভিত্তিক নজরদারি ও যোগাযোগব্যবস্থা মোতায়েন করা সহজ হবে।

শেহাদেহর ভাষ্যে, এই পাহাড় নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠতে পারে ইসরায়েলের প্রস্তাবিত নিরাপত্তা বলয়ের অতিরিক্ত গভীরতা, যার রাজনৈতিক মূল্যও রয়েছে দেশটির অভ্যন্তরে। যে কেউ উঁচু ভূমি নিয়ন্ত্রণ করে, সে সামরিক নিয়ন্ত্রণকে বাস্তবতায় রূপান্তরিত করতে পারে বলেই এই পাহাড় হয়ে উঠেছে দরকষাকষি ও রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কার্ড।

চূড়া দখল মানেই পুরো পাহাড় দখল নয়

ইসরায়েল আগে থেকেই তার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘হলুদ অঞ্চল’-এর মানচিত্রে আলি আল-তাহের পাহাড় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তবে পাহাড়ের একাংশ দখলের দাবির পরও থামেনি লড়াই ও গোলাবর্ষণ। শেহাদেহর মতে, এটাই স্পষ্ট করে দেয় পাহাড়চূড়া নিয়ন্ত্রণ আর গোটা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা মৌলিক পার্থক্য।

কোনো এলাকা সম্পর্কে জানা এবং সেখানে আঘাত হানতে পারার সঙ্গে সেখানে প্রবেশ করে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা, অবস্থান করা ও প্রতিপক্ষকে সেখানে কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে বলে জানান তিনি। নজরদারি ও আকাশশক্তি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও পাহাড়ি ভূখণ্ডে স্থলবাহিনীর সামনে থাকে সুড়ঙ্গ, আশ্রয়কেন্দ্র, খাড়া ঢাল, সংকীর্ণ পথ ও লুকানো যোদ্ধাদের মতো ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ।

শেহাদেহর ভাষায়, প্রযুক্তি আক্রমণাত্মক লড়াইয়ের কঠিনতা কমাতে পারে, কিন্তু দখলদারি বজায় রাখার সমস্যা দূর করতে পারে না। একটি পাহাড় কেবল একটি বিন্দু নয়, এটি চূড়া, ঢাল, উপত্যকা, পাহাড়ি কাঁধ, প্রবেশপথ ও ভূখণ্ডের গভীরতা নিয়ে গঠিত এক জটিল ব্যবস্থা।

তিনি নিয়ন্ত্রণের তিনটি স্তরের কথা উল্লেখ করেন-আঘাত হানার সক্ষমতা, চূড়া দখল এবং সবচেয়ে কঠিন স্তরটি হলো, গোটা পাহাড়ি ভূখণ্ড সুরক্ষিত রেখে হিজবুল্লাহকে সেখানে ফিরে আসা, অনুপ্রবেশ কিংবা অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ থেকে বিরত রাখা।

গভীরে যাওয়ার মূল্য

শেহাদেহর মতে, ইসরায়েল সামরিকভাবে পাহাড়ের গভীরে প্রবেশ করতে পারে, তবে এতে অভিযানের চরিত্র বদলে যাবে, লক্ষ্যভেদী অভিযান থেকে তা রূপ নেবে দখলদারি ও নিরাপত্তা অভিযানে। ইসরায়েলি সেনা যত ভেতরে যাবে, সড়ক সুরক্ষা, সেনা নিরাপত্তা, পার্শ্বরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ বা অবকাঠামো পুনর্গঠন ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তাও তত বাড়বে।

এই বাস্তবতা ইসরায়েলের সামনে একটি কঠিন কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তুলে ধরেছে, শৈলশিরা ধরে রেখে অগ্নিশক্তি দিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা, নাকি বিপুলসংখ্যক স্থলসেনা মোতায়েন করে বৃহত্তর অঞ্চল সুরক্ষিত রাখার ঝুঁকি ও ব্যয় মেনে নেওয়া। দ্বিতীয় বিকল্পটি বহন করতে পারে গুরুতর সামরিক ও রাজনৈতিক পরিণতি, যা ইঙ্গিত দিতে পারে ইসরায়েলের লক্ষ্য কেবল হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার দরকষাকষির কার্ড?

শেহাদেহর বিশ্বাস, ইসরায়েলের প্রকৃত লক্ষ্য হয়তো নাবাতিয়া শহর দখল নয়, বরং শহরটিকে ঘিরে থাকা উঁচু অবস্থানগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে সরাসরি নগরকেন্দ্রে সেনা না পাঠিয়েও নাবাতিয়াকে রাখা যায় নজরদারি ও সামরিক চাপের মধ্যে। তার ভাষায়, আলি আল-তাহের ঘিরে বারবার চালানো অভিযান এবং নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার ইসরায়েলি আলোচনাকে শুধু হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান হিসেবে দেখলে চলবে না।

পাহাড় নিয়ন্ত্রণের ঘোষণার পরও সেখানে গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেয় বলে মনে করেন শেহাদেহ-ইসরায়েল শুধু হিজবুল্লাহর উপস্থিতি ঠেকাতে চায় না, বরং সেখানে নিজের উপস্থিতিকে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণের অংশ করে তুলতে চায়।

এখানেই লুকিয়ে আছে আলি আল-তাহের বিরোধের মূল কথা-ইসরায়েল কি সাময়িক কৌশলগত সুবিধা নিয়ে শেষমেশ সরে যাবে, নাকি লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে স্থায়ী নিরাপত্তা বলয়ের ভিত্তি হিসেবে এই পাহাড়কে দেখছে? এখন পর্যন্ত রণক্ষেত্রের আচরণ দেখে দ্বিতীয় সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, বিশেষ করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায়।

একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণ প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে, লেবানন-ইসরায়েল সরাসরি আলোচনাকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ এবং আলি আল-তাহেরে নিজেদের অবস্থান লেবানিজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। ফলে এই পাহাড় আটকা পড়েছে দুই বিপরীতমুখী কৌশলের মাঝে-সামরিক চাপের মাধ্যমে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি প্রচেষ্টা, আর লিতানির উত্তরে নিজেদের অবস্থান দুর্বল করে দিতে পারে এমন কোনো নজির ঠেকানোর হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ।

নাবাতিয়ার ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি পাহাড়ের চেয়েও বহুদূর পর্যন্ত গড়াতে পারে এই সমীকরণের পরিণতি। ইসরায়েলি সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সীমা, নিজেদের অস্ত্র ধরে রাখতে হিজবুল্লাহর দৃঢ়প্রতিজ্ঞতা এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার টেকসইতা-এই তিনটি বিষয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে আলি আল-তাহের।

আর যদি এই পরীক্ষা ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রশ্নটি আর কে এই পাহাড় নিয়ন্ত্রণ করবে তাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না,প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে, এই পাহাড় থেকেই কি শুরু হবে আরও বড় এক যুদ্ধ।

সূত্র: আরব নিউজ

Attr/AHA
আরও পড়ুন