'পশ্চিম এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য এখন ইরানের পক্ষে'

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী নীতি ও সামরিক আগ্রাসন পশ্চিম এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য ইরানের পক্ষে বদলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের জুমার নামাজের অস্থায়ী ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ হাসান আবুতোরাবি-ফার্দ। তার দাবি, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের কৌশলগত ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করেছে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শুক্রবারের (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আবুতোরাবি-ফার্দ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান, ইয়েমেন ও হিজবুল্লাহর নেওয়া পাল্টা পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী নীতি ও সামরিক আগ্রাসনই ইরান, প্রতিরোধ অক্ষ এবং অঞ্চলটির দেশগুলোর পক্ষে শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার অন্যতম নির্ধারক কারণ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান না থাকলে ইরান আজকের এই শক্তির অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না।

হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ইরানের এই ধর্মীয় নেতা। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ ও আগ্রাসনের কারণেই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শক্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আবুতোরাবি-ফার্দ গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তথাকথিত ১২ দিনের পবিত্র যুদ্ধ এবং ৪০ দিনের যুদ্ধ ও হরমুজ যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অর্জিত সাফল্য দেখিয়েছে, জাতীয় ঐক্য ও সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তিই ইরানিদের সবচেয়ে বড় বিজয়।

এই জাতীয় ঐক্যকে ভবিষ্যতের জন্য রক্ষা করার আহ্বানও জানান তিনি। তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও জাতীয় সংহতির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই আবুতোরাবি-ফার্দের এই মন্তব্য সামনে এলো।  সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন