ইউক্রেন-ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কী নিয়ে?

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১ পিএম

দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৈঠক করেছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিবিহা জানান, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য পারস্পরিক কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, দুই দেশ বিদ্যমান যোগাযোগের চ্যানেলগুলো খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের পরিস্থিতি এবং চলমান বিভিন্ন শান্তি উদ্যোগ নিয়েও তারা মতবিনিময় করেছেন।

সিবিহা আরও বলেন, দুই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পক্ষে ইউক্রেনের অবস্থান তিনি আবারও তুলে ধরেছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরেই কিয়েভ ও তেহরানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, ইরান রাশিয়াকে শাহেদ-ধরনের আক্রমণাত্মক ড্রোন সরবরাহ করেছে, যা ইউক্রেনের শহর, অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান সম্প্রতি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তোলে। তেহরানের দাবি, ওই ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিল।

ইউক্রেন অবশ্য জানিয়েছে, তাদের অভিযানটি রুশ সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত জাহাজকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল। বেসামরিক জাহাজ বা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না বলে কিয়েভ দাবি করেছে।

জুলাইয়ে কাস্পিয়ান সাগরের ওই ঘটনার পরও দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। এবার নিউইয়র্কের বৈঠকে বিদ্যমান যোগাযোগের চ্যানেলগুলো চালু রাখার বিষয়ে সম্মত হওয়াকে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বৈঠক থেকে কোনো বড় ধরনের দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা বা মতপার্থক্যের স্থায়ী সমাধানের ঘোষণা আসেনি। বরং দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিবিহা বলেছেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই কূটনীতির অংশ।

বৈঠকে শুধু ইউক্রেন-ইরান সম্পর্ক নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে। এর ফলে বৈঠকটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিরোধের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

বর্তমানে ইরান নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধই প্রধান নিরাপত্তা সংকট। ফলে ইউরোপের যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দুই ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেন ও ইরানের সম্পর্কের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে কিয়েভের অভিযোগ এবং কাস্পিয়ান সাগরের সাম্প্রতিক জাহাজ হামলা নিয়ে তেহরানের ক্ষোভ দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।

তবু নিউইয়র্কের বৈঠক থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট উভয় পক্ষ অন্তত যোগাযোগের পথ বন্ধ করতে চাইছে না। বিদ্যমান যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রাখার বিষয়ে সম্মতি সেই বার্তাই দিচ্ছে।

এখন এই যোগাযোগ বাস্তবে উত্তেজনা কমাতে কতটা ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয় কি না, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত