দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান জরুরি সংকেত পাঠানোর পর সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। বুধবারের এ ঘটনায় প্রথমে বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় সাধারণ জরুরি সংকেতের পাশাপাশি ‘অননুমোদিত হস্তক্ষেপ’ বোঝাতে ব্যবহৃত সংকেত পাঠায়। এতে বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে নামানো হয়।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, জরুরি সংকেতের পেছনে বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে বিরোধ বা হাতাহাতির ঘটনা থাকতে পারে। তবে ফ্লাইদুবাই এখনো ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তাই পাইলটদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
বিমানটির জরুরি সংকেত পাওয়ার পর ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে বিমানবাহিনী, সামরিক অভিযান ও গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে বিমানটি ছিনতাই হয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ ‘অননুমোদিত হস্তক্ষেপ’ সংকেত সাধারণত বিমান ছিনতাই বা অন্য কোনো গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে বিমানটি তাবুকে নিরাপদে অবতরণের পর ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নাকচ করেন।
বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে যাত্রীর সঠিক সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিমানটি নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রী ও ক্রুদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও বিমান চলাচল ঘিরে সামরিক সতর্কতা বেড়েছে। ফলে একটি বেসামরিক বিমানের জরুরি সংকেতও তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা বা বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়নি। পাইলটদের মধ্যে কী ঘটেছিল এবং কেন বিমান থেকে ওই জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
পুলিশের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
পাকিস্তানের চীনা সামুদ্রিক 'গুপ্তঘাতক', ভারতের জন্য কতটা চিন্তার?
ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র মিরপুর