ইয়েমেনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ইরানের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীর চূড়ান্ত পতনকে নিজেদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা বলেছেন, শান্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র হাতে রাখার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে নয় তার সরকার।
সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক আরবি দৈনিক আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফরাহ আল-জৌবা বলেন, আমরা শান্তিকে পরিত্যাগ করিনি, তবে শান্তির সেই বিভ্রম ত্যাগ করেছি, যা রাষ্ট্রবিরোধীদের হাতে অস্ত্র রাখার অনুমতি দেয়। তার ভাষায়, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের চূড়ান্ত পতন ঘটানো এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইচ্ছার ওপর ইয়েমেনের জনগণের রাষ্ট্রীয় অধিকার নির্ভর করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর মধ্য দিয়ে। পরের বছর রাজধানী সানা দখল করে হুথিরা। তখনকার প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বুহ মনসুর হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্বহাল করতে ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বর্তমানে রাজধানী সানাসহ উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের কর্তৃত্ব।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল হুথিরা। এরপর প্রায় চার বছর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আবার বাড়তে শুরু করে। গত কয়েক সপ্তাহে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। চলমান লড়াইয়ে হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত এই জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছেন ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আফরাহ আল-জৌবা বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হলে ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। স্থলভাগকে যতক্ষণ পর্যন্ত এই প্রণালির জন্য হুমকির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হবে, ততক্ষণ সমুদ্রে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তারও প্রশংসা করেন আফরাহ আল-জৌবা। তবে সরকারের সাফল্য শুধু কতটি শহর পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে বিচার করতে চান না তিনি। তার মতে, কতজন নাগরিক নিরাপত্তা ফিরে পেয়েছেন এবং কতটি পরিবার নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পেরেছে, তার ভিত্তিতেই অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।
কাস্পিয়ান সাগর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রস্তাব পেজেশকিয়ানের
১০ মাস পর ঘরে ফিরছেন আব্রাহাম লিংকনের নাবিকেরা
ভূমধ্যসাগরে পাঁচ অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ১০১ অভিবাসী উদ্ধার