আমিরাতের বিরুদ্ধে সুদানে কলম্বীয় ভাড়াটে যোদ্ধা পাঠানোর অভিযোগ

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) হয়ে লড়াই করতে কলম্বীয় ভাড়াটে যোদ্ধা নিয়োগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)—জাতিসংঘের তদন্তকারীদের একটি গোপন প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব যোদ্ধাকে সুদানে পাঠানোর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

৬ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই) জানায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া একটি গোপন প্রতিবেদন তারা হাতে পেয়েছে। এতে তদন্তকারীরা বলেছেন, সুদানের যুদ্ধে আরএসএফের পক্ষে কলম্বীয় ভাড়াটে যোদ্ধা নিয়োগে আমিরাতের ভূমিকার বিষয়ে ‘চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত’ প্রমাণ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সিকিউরিটি সার্ভিসেস গ্রুপ (জিএসএসজি) কলম্বীয় যোদ্ধাদের লিবিয়া, সোমালিয়া ও চাদ হয়ে সুদানে পাঠিয়েছে। এসব দেশের কিছু অঞ্চলে আমিরাত-সমর্থিত গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের বসাসোতে আমিরাত-সংশ্লিষ্ট পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের (পিএমপিএফ) ঘাঁটি কলম্বীয় যোদ্ধাদের সুদানে পাঠানোর আগে যাতায়াত ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এল-ফাশের দখলে ভাড়াটে যোদ্ধাদের ভূমিকা

জাতিসংঘের তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলম্বীয় যোদ্ধারা দারফুর অঞ্চলে আরএসএফের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের অবরোধ ও দখলের সময় তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব যোদ্ধা ড্রোন পরিচালনা, কামান ব্যবহার এবং পদাতিক বাহিনীকে সহায়তাসহ বিভিন্ন সামরিক ও প্রযুক্তিগত কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনের জন্য আমিরাত, সোমালিয়া, পূর্ব লিবিয়া ও চাদকে যুক্ত করে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, গায়াথি ও আল-ওয়াথবায় কলম্বীয় যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সোমালিয়ার বসাসোতে পিএমপিএফের ঘাঁটিতেও তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএমপিএফকে আমিরাতের সামরিক বাহিনী অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও তদারকি করেছে।

গত বছরের অক্টোবরে ৫০০ দিনের বেশি অবরোধের পর এল-ফাশের দখলে নেয় আরএসএফ। ওই অভিযানে বেসামরিক মানুষকে ধর্ষণ, হত্যা ও চাঁদাবাজির শিকার করার অভিযোগ তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহের জন্য অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রও স্থাপন করেছিল আরএসএফ।

আমিরাতের অস্বীকার

সুদানের যুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এমইইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে জমা দেওয়া চিঠিতে আমিরাত সব ধরনের অন্যায়ের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ভাড়াটে যোদ্ধাদের বিষয়ে ওঠা অভিযোগকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলেও জানিয়েছে।

তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এমইইর মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এমএজেড
আরও পড়ুন