ইরানে যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত হবে যৌথভাবে: ট্রাম্প

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, তা একক কোনো সিদ্ধান্ত নয় বরং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

রোববার (৮ মার্চ) ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-কে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটি একটি যৌথ সিদ্ধান্ত হবে। আমরা নিয়মিত কথা বলছি। আমি সঠিক সময়েই সিদ্ধান্ত নেব, তবে সব দিক বিবেচনা করেই তা করা হবে।’ যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এর আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, তবে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি।

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি এবং নেতানিয়াহু না থাকলে ইরান এতদিনে ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিত। তার ভাষায়, ‘ইরান ইসরায়েলসহ চারপাশের সব কিছু ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিল। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি এবং এমন একটি দেশকে ধ্বংস করেছি যারা ইসরায়েলকে মুছে দিতে চেয়েছিল।’

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। ঘুষ ও দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন নেতানিয়াহুর জেল মওকুফ (পর্ডন) করার জন্য তিনি ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগকে আবারও চাপ দিয়েছেন। হারজোগকে ‘লজ্জাজনক’ অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে এখনই মুক্তি দেওয়া উচিত। আমরা চাই তিনি যেন যুদ্ধের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন, হাস্যকর কোনো আইনি বিষয়ে নয়।’

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নাম ঘোষণার পর ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো নতুন নেতা ‘বেশিদিন টিকবেন না’। মোজতবার নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি শুধু বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়।’

ইরানের দুর্বল হয়ে পড়ার ফলে হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্ত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হবে বলে মনে করছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইরান এখন এমন এক বিপর্যকর পরিস্থিতিতে আছে যা আগে কখনো হয়নি। এই যুদ্ধের ফলে অনেকে নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটবে, কারণ ইরানের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে স্পষ্ট যে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইসরায়েল ও আমেরিকার স্বার্থ এখন একই সুতোয় গাঁথা এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর রসায়নের ওপরই নির্ভর করছে।

DR/SN
আরও পড়ুন