ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহকারী একটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমান বাহিনীর ৬ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। পেন্টাগন শনিবার নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে অংশ নেওয়ার সময় গত বৃহস্পতিবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বিমানসেনারা হলেন- মেজর জন এ. ক্লিনার (৩৩), ক্যাপ্টেন আরিয়ানা জি. সাভিনো (৩১), টেকনিক্যাল সার্জেন্ট অ্যাশলে বি. প্রুইট (৩৪), ক্যাপ্টেন সেথ আর. কোভাল (৩৮), ক্যাপ্টেন কার্টিস জে. অ্যাংস্ট (৩০) এবং টেকনিক্যাল সার্জেন্ট টাইলার এইচ. সিমন্স (২৮)। এঁরা সবাই মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিজ্ঞ সদস্য ছিলেন এবং আকাশেই এক যুদ্ধবিমান থেকে অন্য বিমানে জ্বালানি স্থানান্তরের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতেন।
মেজর জন ক্লিনার তাঁর স্ত্রী এবং তিনটি ছোট সন্তান (যার মধ্যে ৭ মাসের যমজ শিশু রয়েছে) রেখে গেছেন। ক্যাপ্টেন আরিয়ানা সাভিনো সম্প্রতি তাঁর পাইলট উইং অর্জন করেছিলেন এবং তাকে ভবিষ্যতের একজন বড় নেত্রী হিসেবে দেখা হতো। টাইলার সিমন্স তাঁর ‘মিলিয়ন ডলারের হাসির’ জন্য পরিচিত ছিলেন এবং এটিই ছিল তাঁর স্বপ্নের চাকরি। এই ৬ সেনার মৃত্যুতে আলাবামা, ওহাইও এবং কেন্টাকির গভর্নররা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি ছিল একটি ‘কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার’ (KC-135 Stratotanker)। দুর্ঘটনার সময় আকাশপথে দুটি বিমান সংশ্লিষ্ট ছিল, যার মধ্যে দ্বিতীয়টি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
পেন্টাগন প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এই বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে কোনো শত্রু দেশের হামলা বা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (ভুলবশত নিজেদের ওপর হামলা)-এর সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই ৬ জনের প্রাণহানির ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ঘটনায় মার্কিন সেনার মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ৩ নাবিক নিখোঁজ
