মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর তেল অবরোধের মুখে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) পুরো দেশ এক ভয়াবহ ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়ে, যার ফলে প্রায় ১ কোটি মানুষ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়।
কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মূলত তেলের ওপর নির্ভরশীল। ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র কিউবা অভিমুখে তেলের জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করলে এই সংকট ঘনীভূত হয়। বর্তমানে কিউবার কালোবাজারে এক লিটার পেট্রোলের দাম ৯ ডলারে পৌঁছেছে। একটি গাড়ির তেলের ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে এখন ৩০০ ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে, যা অধিকাংশ কিউবান নাগরিকের এক বছরের আয়ের চেয়েও বেশি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে:
যোগাযোগ: জ্বালানি সংকটে বাস ও অন্যান্য যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: স্কুলের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে এবং অনেক সরকারি হাসপাতাল তাদের জরুরি সেবা ছাড়া বাকি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
বিমান চলাচল: এভিয়েশন ফুয়েলের অভাবে আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এবং এয়ার কানাডার মতো বড় বড় সংস্থা কিউবায় তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ইন্টারনেট: নেটওয়ার্ক মনিটরিং সংস্থা ‘কেনটিক’ জানিয়েছে, কিউবার ইন্টারনেট ট্রাফিক স্বাভাবিকের তুলনায় তিন-ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল জানিয়েছেন, গত তিন মাসে দেশে কোনো তেলের চালান পৌঁছায়নি। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ অভিযোগ করেছেন যে, কিউবান পরিবারগুলোর এই চরম দুর্দশা দেখে মার্কিন কর্মকর্তারা আনন্দ পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে ‘চরম বিপদে’ আছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে ‘মুক্ত’ করতে বা ‘দখল’ (Friendly Takeover) করতে আগ্রহী। ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবা দখল করা হবে এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি চাইলেই সেখানে যেকোনো কিছু করতে পারি।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিউবাকে ‘অস্বাভাবিক হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসন যে চাপ সৃষ্টি করছে, তা দেশটিকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মার্কিন রণতরিতে ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বললো আগুন
