মে মাসে চীন যাচ্ছেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪ এএম

ইরানের সাথে চলমান পুরোদমে যুদ্ধের কারণে পূর্বনির্ধারিত সফর পিছিয়ে অবশেষে চীন যাওয়ার নতুন তারিখ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১৪ ও ১৫ মে তিনি বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক হাই-ভোল্টেজ শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন। প্রায় ১০ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই হবে প্রথম চীন সফর।

বুধবার (২৫ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, এই বছরের শেষের দিকে শি জিনপিংকেও ওয়াশিংটনে আতিথেয়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই ‘ঐতিহাসিক সফর’ দুটির প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ট্রাম্পের এই চীন সফরটি মূলত আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সফরটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। 

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন সামরিক অভিযান সশরীরে তদারকি করার জন্য ট্রাম্পের দেশে থাকা প্রয়োজন ছিল এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে নতুন তারিখ গ্রহণে সম্মত হয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ কি মে মাসের আগেই শেষ হবে?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘আমরা সবসময় যুদ্ধের সময়সীমা ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ অনুমান করেছি, সেই হিসাব করলে সফরের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা।’

বর্তমানে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ট্রাম্প এই সংকটে মিত্রদের পাশাপাশি চীনের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছেন। ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের এই প্রথম চীন সফর বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং বর্তমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে দুই দেশের শীতল সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’ এক সম্পাদকীয়তে জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অভাব ‘অস্বাভাবিক’। বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সঙ্ঘাতের চেয়ে সহযোগিতাই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বেশি কল্যাণকর।

DR
আরও পড়ুন