শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক পেছাতে চান ট্রাম্প

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চলতি মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত চীন সফর প্রায় এক মাস পিছিয়ে দিতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৬ তারিখ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি তদারকির জন্য ওয়াশিংটনে থাকা প্রয়োজন বলেই সফরটি পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার ভাষায়, এখন একটি যুদ্ধ চলছে এবং এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে। গত বছরের অক্টোবরে দুই নেতার সর্বশেষ সরাসরি বৈঠকের পর এটিই হওয়ার কথা ছিল নতুন মুখোমুখি আলোচনা।

বেইজিং জানিয়েছে, সফরের সময়সূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফরের সময় ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষ যোগাযোগ রাখছে।

তবে সফর পিছিয়ে যাওয়ার সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জোর দিয়ে জানিয়েছে চীন। লিন জিয়ান বলেন, এ বিষয়ে কিছু গণমাধ্যম যে খবর প্রকাশ করেছে তা ভুল। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও পরিষ্কার করেছে যে ট্রাম্পের সফরের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের প্রশ্নের কোনো সম্পর্ক নেই।

রোববার (১৫ মার্চ) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চীন সহযোগিতা না করলে তিনি বৈঠক পিছিয়ে দিতে পারেন। তবে সোমবার (১৬ মার্চ) তিনি ব্যাখ্যা করেন, সফর বিলম্বের প্রস্তাবের একমাত্র কারণ ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।

শি জিনপিংয়ের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো এবং তিনি এই বৈঠকের অপেক্ষায় আছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, এতে কোনো কৌশল নেই; যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকার অনেকটাই আড়ালে পড়ে গেছে। সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ার সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ভূমিকা বা দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি সমন্বয় করতে ওয়াশিংটনে থাকতে চান এবং এমন সময়ে বিদেশ সফর করা উপযুক্ত নাও হতে পারে।

তবে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে। ইরানের জ্বালানি রপ্তানির বড় ক্রেতা হওয়ায় বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে।

এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করার পর চীনসহ কয়েকটি দেশের বাণিজ্য নীতির তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেছেন। বিনিয়োগ, শুল্ক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সেখানে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি লি চেংগাং জানিয়েছেন, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কেও চীনা প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে ওয়াশিংটনের পরিকল্পিত বাণিজ্য তদন্ত নিয়ে চীনা প্রতিনিধিরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

AS/AHA
আরও পড়ুন