মার্কিন নৌসচিব জন ফেলানকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

মার্কিন নৌবাহিনীর বেসামরিক প্রধান তথা নৌসচিব জন ফেলানকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। 

জন ফেলানের এই বরখাস্ত সামরিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। ফেলানের বিদায়ের এ ঘোষণা এমন এক সপ্তাহে এল, যখন ওয়াশিংটন ডিসির ঠিক বাইরে বড় বার্ষিক সমুদ্র সম্মেলন ‘নেভি লিগস অ্যানুয়াল সি এয়ারস্পেস কনফারেন্স’ চলছিল। ফেলান ও নৌবাহিনীর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দিয়েছিলেন।

জানা যায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে জন ফেলান সর্বশেষ। ২০২৫ সালের মার্চে দায়িত্ব নেওয়া ফেলান ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত। সামরিক বাহিনীতে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও ট্রাম্পের প্রচারণার বড় দাতা ছিলেন তিনি।

বুধবার (২২এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জন ফেলানের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল। তবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। জন ফেলানের স্থলাভিষিক্ত হবেন মার্কিন নৌবাহিনীর আন্ডার সেক্রেটারি হাং কাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, জাহাজ নির্মাণ সংস্কার বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁর ওপর বেশ চটেছেন। এ নিয়ে উত্তেজনার জেরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বুধবার সন্ধ্যায় জানান, ফেলান ‘অবিলম্বে’ পদত্যাগ করছেন। এটি একটি আকস্মিক ঘোষণা। কারণ, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চলাকালে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে।

পার্নেল ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন, ‘যুদ্ধমন্ত্রী এবং উপযুদ্ধমমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমরা ফেলানকে বিভাগ ও মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতি তাঁর সেবার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা তাঁর ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টার সাফল্য কামনা করি। আন্ডার সেক্রেটারি হুং কাও নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত বেসামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

ঠিক এ সময়ে এমন ঘোষণা দেওয়ায় তা কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কারণ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে নৌবাহিনী বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ৩১টি জাহাজকে আবার বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।

একাধিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ফেলান ও হেগসেথের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। হেগসেথ মনে করতেন, ফেলান জাহাজ নির্মাণ সংস্কার বাস্তবায়নে খুবই ধীরগতিতে কাজ করছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে ফেলানের সরাসরি যোগাযোগও হেগসেথকে বিরক্ত করেছিল। বিষয়টিকে তাঁকে ডিঙিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখতেন। এমনকি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গও জাহাজ নির্মাণ এবং নৌবাহিনীর ক্রয় বিভাগের প্রধান প্রধান দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন। এগুলো সাধারণত ফেলানের এখতিয়ারভুক্ত কাজ ছিল।

হোয়াইট হাউসের অন্তত দুজন কর্মী ফেলানকে বলেন, এটি ট্রাম্পেরই সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ফেলান তবু প্রেসিডেন্ট বা তাঁর ঘনিষ্ঠ কারও কাছ থেকে সরাসরি নিশ্চিত হতে চাইছিলেন। তিনি হোয়াইট হাউস চত্বরে এসে আইজেনহাওয়ার এক্সিকিউটিভ অফিস ভবনে পরিচিত কর্মকর্তাদের খোঁজ করেন এবং তথ্য জানতে চান।ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এরপর ফেলান ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করেন এবং ওয়েস্ট উইং লবিতে যান। ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে সংক্ষেপে দেখা করেন এবং নিশ্চিত করেন, ফেলান আর তাঁর পদে নেই।

AHA
আরও পড়ুন