আইফোনের কিস্তি নিয়ে বিবাদ, প্রাণ দিলো পরিবারের ৩ জন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:০২ এএম

আইফোনের কিস্তির টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনায় গড়িয়েছে। ফোনের ক্যামেরা চালু থাকা অবস্থায় পাহাড়ের চূড়া থেকে এক তরুণ ও তার বাবা নিচে পড়ে যান। পরে স্বামী ও সন্তানকে পাহাড় থেকে পড়ে যেতে দেখে তাদের মা-ও নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের তথ্যের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনটিভি এ খবর জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, নিহত তরুণের নাম কুনাল। তিনি সম্প্রতি একটি আইফোন কিনেছিলেন। ফোনটির কিস্তি বা ইএমআই পরিশোধের জন্য পরিবারের কাছে অর্থ চেয়ে আসছিলেন তিনি। সর্বশেষ কিস্তির টাকা দেওয়া নিয়ে বাবার সঙ্গে তার উত্তপ্ত কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিসগাঁও এলাকার একটি পাহাড়ে চলে যান কুনাল।

ছেলের পাহাড়ে চলে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান তার বাবা মুরলিধর চন্দগুড়ে ও মা সঙ্গীতা। স্থানীয় কয়েকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। কুনালকে নিরাপদে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কুনাল পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এ সময় সেখানে থাকা এক ব্যক্তি তাকে মায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জীবন বেছে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু কুনাল আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানান বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

স্থানীয় সাবেক সরপঞ্চ সঞ্জয় যাদব বলেন, কুনালকে এমন চরম সিদ্ধান্ত না নিতে তারা বারবার অনুরোধ করেছিলেন। তাকে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে এবং মায়ের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

পরে দুপুর ১টার দিকে কুনালকে বোঝাতে তার বাবা পাহাড়ের কিনারায় এগিয়ে যান। তাকে ধরে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করার সময় দুজনের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এরপর বাবা ও ছেলে একসঙ্গে নিচের গিরিখাতে পড়ে যান। স্বামী ও সন্তানকে নিচে পড়ে যেতে দেখে কিছুক্ষণ পর সঙ্গীতাও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়াও চলছে।

Maz
আরও পড়ুন