'ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পথ তৈরি করেছে ইউরোপ'

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পথ তৈরি করার জন্য ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যকে দায়ী করেছেন রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। তার অভিযোগ, ২০২২ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদে এই তিন ইউরোপীয় দেশ ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি উলিয়ানভ। ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানের সমালোচনা করে বাঘাইয়ের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান তিনি। একই সঙ্গে বলেন, এসব পদক্ষেপের জবাবে ইরানি কর্মকর্তারা বরাবরই সংযত ও ভদ্র আচরণ করেছেন।

উলিয়ানভ তার পোস্টে লেখেন, তেহরানের কর্মকর্তারা অত্যন্ত সংযত ও ভদ্র। তারা বিষয়টি উপেক্ষা করছেন যে, ২০২২ সালের মার্চ থেকে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পক্ষভুক্ত তিন ইউরোপীয় দেশ, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য, আইএইএর পরিচালনা পর্ষদে ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তার অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পথ তৈরি করেছে।

এর আগে শনিবার জার্মানি ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের জবাব দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক হামলা নিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের আগের মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দেন।

বাঘাই উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলার বিষয়ে মের্ৎস বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল আমাদের সবার হয়ে নোংরা কাজটি করছে।’ বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে এসে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করছে এবং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।

উলিয়ানভ ও বাঘাইয়ের বক্তব্যে ইরানকে ঘিরে ইউরোপীয় দেশগুলোর নীতি এবং পশ্চিম এশিয়ার সামরিক উত্তেজনা নিয়ে তাদের অবস্থানের পার্থক্য সামনে এসেছে। রুশ প্রতিনিধি ইউরোপের তিন দেশের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়িয়ে ইরানের ওপর হামলার পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, বাঘাই জার্মানির বর্তমান উদ্বেগের বক্তব্যের সঙ্গে দেশটির চ্যান্সেলরের আগের মন্তব্যের তুলনা করে ইউরোপীয় অবস্থানের অসংগতি তুলে ধরেছেন। সূত্র: ওয়ানা নিউজ

এএস
আরও পড়ুন