যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইরানকে সহায়তায় সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছেন কাশ্মীরিরা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

ইরানের যুদ্ধাহত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দেখা যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ, মানুষ তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ, সঞ্চয় এমনকি সোনার অলঙ্কার পর্যন্ত দান করছেন, যা এই সহমর্মিতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মাসরাত মুখতার নামে এক নারী, যিনি জন্মদিনে বাবার কাছ থেকে পাওয়া সোনার কানের দুলও দান করে দেন, এই উদ্যোগের প্রতীকী চিত্র হয়ে উঠেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন, যখন সাধারণত উৎসব ও আনন্দে মেতে থাকার কথা, তখন অনেকেই সেই আনন্দকে সরিয়ে রেখে নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং মূল্যবান সম্পদ তুলে দিয়েছেন ইরানের মানুষের সহায়তায়।

শুধু ব্যক্তিগত অলঙ্কারই নয়, পরিবারগুলো তাদের সঞ্চয়ের অংশ, তামার বাসন, গবাদিপশু, সাইকেল এমনকি জীবিকার উপকরণও দান করছে। শিশুরা তাদের বহুদিনের জমানো সঞ্চয় ভেঙে দিচ্ছে, দোকানদার ও ব্যবসায়ীরাও তাদের আয়ের অংশ তুলে দিচ্ছেন এই মানবিক উদ্যোগে।

কাশ্মীরের বুদগাম অঞ্চলের ৫৫ বছর বয়সী মুখতার বলেন, তারা যা ভালোবাসেন, সেটিই দিচ্ছেন কারণ এতে ইরানের মানুষের সঙ্গে তাদের এক ধরনের আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়, যা ইতিহাস ও সময়ের মধ্য দিয়ে টিকে আছে।

শ্রীনগরের শিয়া অধ্যুষিত জাদিবাল এলাকায় ৭৩ বছর বয়সী তাহেরা জান বলেন, কাশ্মীরে মেয়েদের বিয়ের জন্য যে তামার বাসন সংগ্রহ করা হয়, সেটিও এখন দেওয়া হচ্ছে সেইসব মেয়েদের জন্য, যারা যুদ্ধে তাদের মা বা বোনকে হারিয়েছে।

এই সহায়তায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যুক্ত হয়েছেন, যেমন এক তরুণ চালক নিজের জীবিকার দুটি গাড়ির একটি দান করেছেন, আবার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিরাও অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় এক আইনপ্রণেতা এক মাসের বেতন দান করেছেন বলেও জানা গেছে।

যদিও কাশ্মীরের জনসংখ্যার একটি অংশ শিয়া হওয়ায় ইরানের প্রতি আবেগ বেশি, তবুও এই সহায়তা শিয়া-সুন্নি ভেদাভেদ ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে। অনেক পরিবার তাদের ঈদের আয়োজন সীমিত করে সেই অর্থ দান করেছে, কেউ কেউ দোকান আগেভাগে বন্ধ করে সহায়তায় যুক্ত হয়েছেন। এই সহমর্মিতার পেছনে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, যা কাশ্মীর ও প্রাচীন পারস্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। সাম্প্রতিক যুদ্ধ সেই বন্ধনকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই সহায়তার মোট পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, সোনা, গয়না, গৃহস্থালি সামগ্রী, গবাদিপশু ও যানবাহন।

শ্রীনগর, বুদগাম ও বারামুল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবকেরা সংগ্রহকেন্দ্র পরিচালনা করছেন এবং প্রতিটি অনুদান নথিভুক্ত করছেন। ছোট ছোট অনুদান যেমন কয়েন, পিগি ব্যাংক বা বাসনপত্র যা সংখ্যার দিক থেকে এই সহায়তার বড় অংশ গঠন করছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা চিকিৎসা সামগ্রী প্রস্তুত করছেন এবং শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাস এক বার্তায় কাশ্মীরের মানুষের এই সহমর্মিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে, যেখানে বলা হয়, এই মানবিক সহায়তা ও আন্তরিক সংহতি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যাবে। সূত্র: আলজাজিরা

AS/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত