ভারতে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ভাইরাল আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবার রাজধানী নতুন দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির শিক্ষাখাতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিতর্ক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেই এই প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিজিৎ দিপকে এই গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে সাড়া জাগানো এই আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বর্তমানে ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি।
মূলত পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং খাতা মূল্যায়নে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে এই যুব আন্দোলন। প্রশ্ন ফাঁসের এই ঘটনায় ভারতের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে ইতিমধ্যে প্রায় ৮ লাখ মানুষ একটি গণস্বাক্ষর বা পিটিশনে সই করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দলের সব সমর্থককে শান্তিপূর্ণভাবে দিল্লির এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদে ভারতে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশার বিরুদ্ধে তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
অনলাইনে এই আন্দোলনের ব্যাপক জনপ্রিয়তার মুখে ইতিমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গ্রুপটির এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদি সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, এই গ্রুপটি তথাকথিত কিছু ‘ভারত-বিরোধী’ সংগঠনের কাছ থেকে সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের এমন বাধা ও অভিযোগের পরও দিল্লির রাজপথে তরুণদের এই অভিনব প্রতিবাদ ঘিরে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অগ্রহণযোগ্য: ফ্রান্স