চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বাভি আঘাত হেনেছে পূর্ব চীনের উপকূলে। এতে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ তাইওয়ানে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়। তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, ফ্রান্সের আয়তনের সমান বিস্তৃত এই আবহাওয়া ব্যবস্থা পূর্ব ও উত্তর চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হতে পারে।
চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঝড়টি প্রথম ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলীয় শহর ইউহুয়ানে আঘাত হানে। এরপর মধ্যরাতের দিকে ওয়েনঝৌ শহরের ইউয়েচিং এলাকায় দ্বিতীয়বার স্থলভাগে প্রবেশ করে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ইউয়েচিংয়ে ১ হাজার ৩০০টির বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে, যার মধ্যে ৭০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ উপড়ে গেছে। ভারী বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে বড় বড় পাথর সড়কে গড়িয়ে পড়ে, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
চীনে প্রবেশের আগে শনিবার ঘূর্ণিঝড়টি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল অতিক্রম করে। এর প্রভাবে দ্বীপজুড়ে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়। উত্তরাঞ্চলের মিয়াওলি কাউন্টির একটি এলাকায় প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঝড় চলাকালে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়া, পা পিছলে পড়ে যাওয়া এবং উড়ে আসা বিভিন্ন বস্তুর আঘাতে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে রোববার ১৩৭টি আন্তর্জাতিক ও ৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সেবাকর্মীরা উদ্ধার অভিযান, সড়ক পরিষ্কার এবং স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র: রয়টার্স
মধ্যরাতে চীনে আঘাত হানবে সুপার টাইফুন
চীনের সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, উদ্বিগ্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে ইরানের পাল্টা হামলা