পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছে পিটিআই। একই সময়ে লাহোরের ডেপুটি কমিশনার মুহাম্মদ আলী ইজাজের জারি করা এক আদেশে আলিমা খান ও মুহাম্মদ আমিরকে ৩০ দিনের জন্য আটক বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের ওই আদেশে পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষণ অধ্যাদেশের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আদেশের একটি অনুলিপি ডনের হাতে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, লাহোরের পুলিশ কর্মকর্তার পাঠানো একটি চিঠির ভিত্তিতে এই আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদেশে দাবি করা হয়, আলিমা খান ও আমির জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারেন।
আদেশে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর পিটিআইয়ের সমর্থক ও কর্মীরা বিক্ষোভে নামলে আলিমা খান ও আমির সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন। তারা কর্মীদের সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন বলেও পুলিশ প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের আদেশে আরও দাবি করা হয়, আলিমা খান ও আমির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং জনসভায় কর্মীদের আবার সংগঠিত করছেন এবং সরকারের ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দিয়ে তাদের উসকে দিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাহোরের সিভিল লাইনস বিভাগের পুলিশ সুপার এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার প্রধান শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুজনকে ৩০ দিনের জন্য আটক করার সুপারিশ করেছিলেন বলে আদেশে বলা হয়েছে। তাদের কোট লাখপত কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারের অধীনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রাদেশিক সরকারের কাছে আবেদন করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, আলিমা খানের বোন নোরিন নিয়াজির কাছ থেকে তার গ্রেপ্তারের খবর পেয়েছেন। তিনি বলেন, পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে এবং দল সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দাবিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে আদায়ের চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে এমপিও আইনে আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করা উত্তেজনা ও সহিংসতা বাড়াতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন গওহর।
এর আগে পিটিআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিল, লাহোরে নিজ বাড়ির বাইরে থেকে কর্তৃপক্ষ আলিমা খানকে ‘অপহরণ’ করেছে। দলের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরামও তাকে দ্রুত আদালতে হাজির করার দাবি জানান। পিটিআই এক বিবৃতিতে আলিমা খানের আটককে পরিস্থিতি আরও খারাপ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপ বলে অভিযোগ করেছে।
বিরোধী জোট তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তানও আলিমা খানের আটকের নিন্দা জানিয়েছে এবং তাকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেছে। জোটটির অভিযোগ, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও প্রতিহিংসার অংশ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলিমা খানের আটকের ঘটনা পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের আগে পাঞ্জাবে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপের অভিযোগের মধ্যে ঘটল। এর আগে পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা কর্তৃপক্ষ জনশৃঙ্খলা রক্ষণ আইনের আওতায় কয়েক ডজন পিটিআই কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক আটকাদেশ জারি করেছিল।
ইসলামাবাদেও পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে একই ধরনের তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। দলটি ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দিকে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছে। সরকার জানিয়েছে, তারা ওই পদযাত্রা ঠেকাবে। এরই মধ্যে শনিবার ইসলামাবাদ পুলিশ চার পিটিআই কর্মী ও সমর্থককে আটক করেছে। পুলিশ দাবি করেছে, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক চলাকালে তাদের আটক করা হয় এবং অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও তাদের জিম্মি করার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইসলামাবাদের প্রবেশপথগুলোতে শত শত কনটেইনারও রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যেই আলিমা খানের আটককে কেন্দ্র করে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। সূত্র: ডন
লোহিত সাগর দখলের পর তেলসমৃদ্ধ পূর্ব ইয়েমেনের পথে হুথিরা
তেহরানে আইআরজিসি-বাসিজের বিশাল সামরিক মিছিল
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে ফের ইরানের সতর্কবার্তা