ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাতানজ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। শনিবার সকালে এই হামলাটি চালানো হয় বলে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে এই পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত এই পারমাণবিক কমপ্লেক্সটিতে বিমান হামলা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ লিক বা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। নাতানজ কেন্দ্রের আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি বা তাৎক্ষণিক বিপদ নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে হামলার ফলে স্থাপনাটির ভেতরে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, নাতানজ কেন্দ্রটি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। এর আগেও বেশ কয়েকবার এই স্থাপনাটি সাইবার হামলা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছিল, যার জন্য ইরান বরাবরই ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে। তবে এবারের সরাসরি বিমান হামলাটি যুদ্ধের এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই হামলার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই আক্রমণ এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধ ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ কথা বলছেন, অন্যদিকে পেন্টাগন স্থল অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে। এই হামলার পর তেহরান কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা, মার্কিন সেনারা প্রস্তুত
