ইরানের ইউরেনিয়াম যেকোনো উপায়ে কবজায় নিতে চান ট্রাম্প

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

ইরানের সাথে চলমান শান্তি আলোচনা সফল না হলে প্রয়োজনে কঠোর বা ‘অবন্ধুসুলভ’ পন্থায় দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কবজায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান এই দাবিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘কাল্পনিক’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে সিএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরান ‘সবকিছুতে রাজি’ হয়েছে। এর মধ্যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে মার্কিন স্থল সেনাদের (Boots on the ground) প্রয়োজন হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘না, কোনো সেনার প্রয়োজন হবে না। আমরা তাদের সঙ্গে গিয়ে এটি নিয়ে আসব। ততক্ষণে আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়ে যাবে।’

পরে অ্যারিজোনায় এক নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্প এক অদ্ভুত পরিভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব পারমাণবিক ‘ধুলো’ (Nuclear Dust) নিয়ে নেবে। আমাদের বি-২ বোমারু বিমানগুলো যে সাদা গুঁড়ো তৈরি করেছিল, ওটাই সেই ধুলো। আমরা যেকোনোভাবেই হোক এটা নিতাম।’ উল্লেখ্য, পরমাণু বিজ্ঞানে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলে স্বীকৃত কোনো পরিভাষা নেই, ট্রাম্প মূলত ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকেই এভাবে বুঝিয়েছেন।

ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘কাল্পনিক তথ্য’ (Alternative Facts) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর বিষয়ে ইরান কোনো ধরণের সম্মতি দেয়নি। ওই সূত্র আরও জানায়, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে বলে ট্রাম্প যা দাবি করছেন, তাও ডাহা মিথ্যা।

তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কোনো বৈষম্যমূলক শর্ত মেনে নেবে না। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার প্রধান অমীমাংসিত বাধাগুলোর মধ্যে এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি অন্যতম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এমন কঠোর বক্তব্য শান্তি আলোচনার পরিবেশকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

NB
আরও পড়ুন