শিশুদের ম্যালেরিয়া চিকিৎসার ওষুধের অনুমোদন দিলো ডব্লিউএইচও

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১২ পিএম

মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

শিশুদের ম্যালেরিয়া চিকিৎসার ওষুধের অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচওএএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সংস্থাটি 'আর্টেমেথার-লুমেফ্যান্ট্রিন' নামক এই ম্যালেরিয়ারোধী ফর্মুলেশনটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এটিই প্রথম কোনো ম্যালেরিয়ার ওষুধ, যা মূলত নবজাতক ও শিশুদের চিকিৎসার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রাক-যোগ্যতার এই স্বীকৃতি নির্দেশ করে যে, ওষুধটি গুণমান, সুরক্ষা এবং কার্যকারিতার আন্তর্জাতিক মান পূরণ করেছে।

এখন পর্যন্ত বড়দের জন্য তৈরি ফর্মুলেশন দিয়েই শিশুদেরও চিকিৎসা করা হতো। এতে ওষুধের ডোজের ভুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, শতাব্দী ধরে ম্যালেরিয়া বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানদের এবং সমাজের কাছ থেকে স্বাস্থ্য, সম্পদ ও আশা কেড়ে নিয়েছে।

কিন্তু আজ পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে। নতুন টিকা, রোগ নির্ণয় পরীক্ষা এবং সবচেয়ে কমবয়সীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ওষুধসহ অন্যান্য কার্যকর ওষধ এই পরিস্থিতি পাল্টে দিতে সাহায্য করছে।

তিনি বলেন, আমাদের জীবদ্দশায় ম্যালেরিয়া নির্মূল করা এখন আর স্বপ্ন নয়... এটি একটি বাস্তব সম্ভাবনা। তবে তা কেবল টেকসই রাজনৈতিক ও আর্থিক অঙ্গীকারের মাধ্যমেই সম্ভব। এখন আমরা তা করতে পারি। এখন আমাদের অবশ্যই করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৮০টি দেশে আনুমানিক ২৮ কোটি ২০ লাখ ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয় এবং ৬ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।

মোট রোগী ও মৃত্যুর ৯৫ শতাংশই আফ্রিকায় এবং এই মৃত্যুর তিন-চতুর্থাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। জাতিসংঘের সংস্থাটি জানিয়েছে, ওষুধের প্রতিরোধ ক্ষমতা, কীটনাশকের প্রতিরোধ ক্ষমতা, রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থতা এবং বৈদেশিক সাহায্য খাতে ব্যয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার কারণে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, তাদের প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি সরকারি খাতে পণ্য ক্রয়কে সক্ষম করবে এবং আফ্রিকার ম্যালেরিয়া-প্রবণ এলাকাগুলোতে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া প্রায় ৩ কোটি শিশুর জন্য চিকিৎসার দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাপী ৭০ শতাংশ দেশে ওষুধ, টিকা, পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম তদারকি করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণ কর্মসূচি নিশ্চিত করে যে, আন্তর্জাতিক ক্রয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পণ্যগুলো গুণমান, সুরক্ষা, কার্যকারিতা এবং কর্মক্ষমতার বৈশ্বিক মান পূরণ করছে কি না।

YA
আরও পড়ুন