ভারতে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে।
বেকার তরুণদের প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ‘তেলাপোকা’কে বেছে নিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা এখন পাকিস্তানি যুবসমাজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন ধারার রাজনৈতিক সচেতনতা ও ব্যঙ্গাত্মক প্রচারের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানেও ‘ককরোচ’ রাজনীতির হাওয়া
ভারতে এই আন্দোলনের অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট ও পেজের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ককরোচ আওয়ামি পার্টি
ককরোচ আওয়ামি লীগ
মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট
নতুন এই অনলাইন দলগুলোর লোগো ভারতের মূল সংগঠনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও, রঙের ক্ষেত্রে তারা সচেতনভাবেই পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার সাথে মিল রেখে সবুজ ও সাদা রঙ বেছে নিয়েছে।
‘সিস্টেমের অবহেলিত’ তরুণদের কণ্ঠস্বর
এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদেরকে ‘তরুণদের দ্বারা পরিচালিত তরুণদের রাজনৈতিক মঞ্চ’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে গিয়ে তারা নিজেদের ‘সিস্টেমের অবহেলিত জনসাধারণের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করছে।
ভারতে এই আন্দোলনের একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দু থাকলেও, পাকিস্তানে কোনো একক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। দেশটির স্বতন্ত্র কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের মতো করে এই আন্দোলনের বিভিন্ন সংস্করণ ও কনটেন্ট তৈরি করছেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
যেভাবে জন্ম নিল এই ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন
এই অদ্ভুত অথচ শক্তিশালী অনলাইন আন্দোলনের উৎপত্তি হয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। একটি মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবক ও কর্মীদের ‘তেলাপোকা’ এবং ‘পরজীবী’র সাথে তুলনা করলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
যদিও পরবর্তীতে বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে, তার মন্তব্যটি মূলত জাল সনদধারী বা অযোগ্য ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে ছিল; তবুও ভারতের তরুণ সমাজ এই অপমানজনক তকমাকে সহজে মেনে নেয়নি। উল্টো তারা একেই নিজেদের একাত্মতা ও প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত করে।
৩০ বছর বয়সী বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপক ভারতের এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) প্রতিষ্ঠাতা। কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল না হওয়া সত্ত্বেও যাত্রা শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ২ কোটিরও বেশি অনুসারী (Followers) অর্জনের মাধ্যমে ডিজিটাল দুনিয়ায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে এই প্ল্যাটফর্ম।
দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের নতুন প্রতিবাদের ভাষা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনটি কেবল একটি সাময়িক ব্যঙ্গাত্মক প্রবণতা বা ‘ট্রেন্ড’ নয়; বরং এটি তরুণ প্রজন্মের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ডিজিটাল রূপ।
বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাব: ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশের তরুণরাই তীব্র কর্মসংস্থান সংকটে ভুগছে।
বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি হতাশা: প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি তরুণদের অনাস্থা দিন দিন বাড়ছে।
অদম্যতার প্রতীক: তেলাপোকা যেমন যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকে এবং সহজে একে দমানো যায় না, তরুণরা সেই বৈশিষ্ট্যের আড়ালেই নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরছে।
ভারতের পর পাকিস্তানেও এই ধরনের আন্দোলনের দ্রুত বিস্তার প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্ম প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে এখন সম্পূর্ণ নতুন কোনো রাজনৈতিক বিকল্প বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের খোঁজ করছে।
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড
ইরানের পথে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনির