ইরানের সম্ভাব্য ড্রোন হামলার ঝুঁকি থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত তেল ডিপোগুলোর ওপর বিশেষ নকশার লোহার খাঁচা (Anti-Drone Cages) তৈরি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে, ডিপোগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় এই লোহার খাঁচাগুলো বসানো হচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষের ড্রোন সরাসরি মূল অবকাঠামোতে আঘাত করতে না পারে।
কেন এই অভিনব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাত বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুর দিকেই আমিরাত ইরানে সরাসরি হামলা চালায়।
একই সঙ্গে আমিরাতের মাটিতে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের উপস্থিতি এবং তাদের বিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করায় তেহরান চরম ক্ষুব্ধ হয়।
এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান আমিরাতের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র ও ডিপো লক্ষ্য করে ছোট আকৃতির ড্রোন (Kamikaze Drones) হামলা শুরু করে। মূলত এই ধরনের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতেই লোহার খাঁচাকে ‘শারীরিক প্রতিরক্ষা কবচ’ হিসেবে বেছে নিয়েছে আবুধাবি।
নেতানিয়াহুর গোপন সফর ও ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি
সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি গোপন আমিরাত সফর সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই ঘটনার পর তেহরানের পক্ষ থেকে আবুধাবিকে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যদি আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, তবে আমিরাতের ওপর ব্যাপক মাত্রায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।
হুমকির মুখে আমিরাতের অর্থনীতি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তেল ও গ্যাস খাত। দেশের অর্থনীতির ওপর এই ঝুঁকির প্রভাব কতটা ভয়াবহ, তা নিচের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট:
অর্থনৈতিক খাত: জিডিপি ও রপ্তানিতে অবদান
মোট জিডিপি (GDP): প্রায় ৩০ শতাংশ আসে তেল-গ্যাস থেকে
মোট রপ্তানি আয়: প্রায় ১৩ শতাংশ আসে জ্বালানি খাত থেকে
ফলে, জ্বালানি অবকাঠামোর এই নিরাপত্তা ঝুঁকি আমিরাতের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পকে রক্ষা করতে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি এখন এই অবকাঠামোগত সুরক্ষার পথ বেছে নিতে হয়েছে দেশটিকে।
বিশ্লেষকদের মতামত
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার হামলা ঠেকাতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেই প্রথম এই ধরনের ‘খাঁচা’ বা 'স্ক্র্যাট শিল্ড' (Slat Armor) ব্যবহার শুরু হয়। এবার মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোও একই পথ অনুসরণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত সামরিক ও রাডার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি এই ধরনের কায়িক পদক্ষেপ ইরান-আমিরাত ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ। মধ্যপ্রাচ্যের এই ছায়াযুদ্ধ (Proxy War) এখন বৈশ্বিক জ্বালানি সম্পদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সূত্র: এনডিটিভি
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ইরানের একার হাতে: রাশিয়া
মহারাষ্ট্রে বাঘের হামলায় ৪ নারীর মৃত্যু
ভারতের সীমানা পেরিয়ে পাকিস্তাতে ঝড় তুলেছে ‘তেলাপোকা’
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড