শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে রোববারের অধিবেশন হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তারের খবর জানানোর পরপরই জিসান ইস্যুটি উত্থাপন করেন।

মন্ত্রী জানান, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয় এবং এতে জিসানের চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদ সহযোগিতা করেন। পরবর্তীতে বিয়ে না করার অজুহাতে জিসান আত্মগোপনে চলে যান এবং থানায় নিখোঁজের জিডি করান। পুলিশ তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এরপর ভুক্তভোগী নারী কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

এই বক্তব্য সংসদে উপস্থাপনের পর বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘একটি বিতর্কিত বিষয় সংসদে তোলা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।’ তার দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন বিরোধীদলকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য। তিনি অবিলম্বে কার্যবিবরণী থেকে জিসান সংক্রান্ত বক্তব্য বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করলে সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দাঁড়িয়ে জবাব দিতে উদ্যত হন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার উভয় পক্ষকে বসতে অনুরোধ করলেও দীর্ঘ সময় উত্তেজনা চলতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ডেপুটি স্পিকার জানান, ৩০০ বিধির আওতায় প্রদত্ত বিবৃতির ওপর সাধারণত কোনো প্রশ্ন বা বিতর্ক করার সুযোগ নেই। তবে স্পষ্টীকরণের প্রশ্ন করা যেতে পারে। তিনি রুলিং দেন, যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সংসদীয় রীতির বাইরে প্রমাণিত হয়, তবে তা বিধি অনুযায়ী কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সংসদে আবারও স্পষ্ট হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভাজন। একদিকে সরকারপক্ষ জিসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীদল এটিকে উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক চাল বলে দাবি করছে।

এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সংসদে বিরল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি হলেও তা যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার না হয়।

Attr/AHA
আরও পড়ুন