বিশ্বকাপের আলোয় যেখানে প্রতিদিনই শিরোনাম হচ্ছেন বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা, সেখানে এবারের আসরে ভিন্ন এক কারণে সবার নজর কেড়েছে তিন বছরের এক শিশু। পায়ে বল নেই, মাঠে খেলার সুযোগও নেই, তবু নিজের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, দুষ্টুমি আর উচ্ছ্বাসে কোটি ফুটবলপ্রেমীর মন জয় করে নিয়েছে স্পেনের তারকা লামিনে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন।
মাত্র তিন বছর বয়সেই গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে ছোট্ট কেইন। স্পেনের প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারিতে তার উচ্ছ্বাস, নাচ-গান, মজার অঙ্গভঙ্গি এবং ক্যামেরার সামনে প্রাণবন্ত উপস্থিতির ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মাঠের তারকাদের পাশাপাশি এখন বিশ্বকাপজুড়ে আলোচনার বড় একটি অংশজুড়েই রয়েছে এই খুদে ভক্ত।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও কেইনকে নিয়ে চলছে আলোচনা। অনেকেই বলছেন, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক কোনো গোল, কোনো খেলোয়াড় কিংবা কোনো ট্রফি নয়, বরং লামিনে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন। কেউ তাকে বলছেন ‘বিশ্বকাপের খুদে তারকা’, আবার কেউ ডাকছেন ‘গ্যালারির স্প্যানিশ সুপারস্টার’ নামে।
স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে কেইনের উপস্থিতি এখন আলাদা আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ক্যামেরা একবার তার দিকে ঘুরলেই হাসি, দুষ্টুমি, মজার মুখভঙ্গি আর উচ্ছ্বাস দিয়ে মুহূর্তেই দর্শকদের মন জয় করে নিচ্ছে সে।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে কেইন। মাঠে স্পেনের ফুটবলাররা যখন জয় উদযাপনে ব্যস্ত, তখন ক্যামেরা ঘুরে যায় গ্যালারিতে থাকা ছোট্ট কেইনের দিকে। তার মজার মুখভঙ্গি আর দুষ্টুমি দেখে হাসতে দেখা যায় বড় ভাই লামিনে ইয়ামালকেও। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আর ফুটবলপ্রেমীরা ভালোবাসায় ভাসিয়ে দেন তাকে।
অবশ্য কেইন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একেবারে নতুন মুখ নয়। ২০২৪ সালে স্পেন ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভাই লামিনের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে অংশ নিয়েছিল সে। পরে প্যারিসে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ছোট্ট কালো স্যুট ও স্নিকার্স পরে রেড কার্পেটে হাজির হয়েও সবার নজর কেড়েছিল।
লামিনে ইয়ামাল ও কেইনের মা একই হলেও তাদের বাবা আলাদা। লামিনের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর জন্ম হয় কেইনের। তবে দুই ভাইয়ের সম্পর্কের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামাল বহুবার আবেগঘন মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমার ছোট ভাই আমার কাছে সবকিছু। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। মনে হয় সে আমার নিজের সন্তান।’
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পরও গ্যালারিতে দুই হাত তুলে ‘ভামোস!’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় কেইনকে। সেই দৃশ্যও ফুটবলপ্রেমীদের মন ছুঁয়ে যায়।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জন্ম নেওয়া কেইনের সঙ্গে ইয়ামালের বয়সের ব্যবধান প্রায় ১৫ বছর। তবু দুই ভাইয়ের বন্ধন যেন অন্যরকম। ইয়ামাল যখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হচ্ছেন, তখন ছোট ভাইয়ের হাসিখুশি শৈশবই তাকে দিচ্ছে আলাদা আনন্দ।
কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা ইয়ামাল একাধিকবার জানিয়েছেন, এখন মাকে সুখে দেখতে পারা এবং ছোট ভাইকে সুন্দর শৈশব উপহার দিতে পারাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বিশ্বকাপে তাই একজন মাঠের নায়ক, আর অন্যজন গ্যালারির। একজন পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করছেন বিশ্বকে, অন্যজন নিজের সরল হাসি, দুষ্টুমি আর প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাসে জয় করে নিচ্ছেন কোটি মানুষের হৃদয়।
কেন খেলা হয় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ
বিশ্বকাপজয়ীদের বিশেষ আংটি দেবে ফিফা
প্রিয় শিষ্য নাকি নিজের দেশ, কার পক্ষে গার্দিওলা