চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে শিল্পের বিষয় নির্বাচন, সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী জীবনযাপন এবং বিশ্বজোড়া খ্যাতি এস এম সুলতানকে জীবদ্দশাতেই কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছিল। তার শিল্পদৃষ্টি ও জীবনবোধ তাকে সমসাময়িক অন্য সব শিল্পীর থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এক পরিচয়ে ভূষিত করেছে।

১৯২৪ সালের এই দিনে নড়াইলে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মো. মেছের আলি এবং মাতার নাম মোছা. মাজু বিবি। পিতা-মাতা আদর করে সুলতানের নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া।

তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন নানা দৃশ্যপট। তার তুলির আঁচড়ে বাঙময় হয়ে উঠেছে গ্রাম বাংলার চিরচেনা দৃশ্য। যেমন পাট কাটা, ধান কাটা, ধান ঝাড়া, জলকে চলা, গ্রামের খাল, মৎস্য শিকার, গ্রামের দুপুর, নদী পারাপার, ধান মাড়াই, জমিতে চাষ দিতে যাওয়া, মাছ ধরা, নদীর ঘাটে গোসল করা, ধান ভানা, গুন টানা, ফসল কাটার ক্ষণ, শরতের গ্রামীণ জীবন, শাপলা তোলার মতো বিখ্যাত সব ছবি। ১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালনী বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, সালভেদর দালিসহ বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছে।

১৯৭৬ সালে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তার একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশের সুশীল সমাজের সাথে তার নতুনভাবে পরিচয় ঘটে। কালোত্তীর্ণ চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর চিরকুমার, অসাম্প্রদায়িক এই শিল্পী যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখাতে তাঁর বাড়িতে নির্মিত হয়েছে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা।

বাংলার গ্রামীণ জীবন, কৃষক এবং মেহনতি মানুষের অবয়ব তার শিল্পকর্মের ক্যানভাসে অনন্য এক মাত্রা পেয়েছিল। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলসহ দেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

MU/YA
আরও পড়ুন