মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইউরোপের নিরপেক্ষতা ছিল না: পেজেশকিয়ান

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি ছিল বলে সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওই সংঘাতে কয়েকটি দেশের নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেলেও ইউরোপের কাছ থেকে নিরপেক্ষ অবস্থান দেখা যায়নি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে কিছু দেশের নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেছে, কিন্তু নিরপেক্ষতা দেখা যায়নি। ইউরোপীয় দেশগুলোর আচরণ পুনর্বিবেচনা করা এবং নিজেদের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার প্রত্যাশাও জানান তিনি।

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, পরমাণু সমঝোতা ও স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া নিয়ে ইউরোপের পদক্ষেপ এবং বৈরী নীতির ছায়ায় কাজ করার প্রবণতার কারণে আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রভাব রাখার সক্ষমতা হারিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো।

ন্যাটোর মহাসচিবের ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের সমর্থনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, ইউরোপের উচিত তাদের আচরণ পুনর্বিবেচনা করা এবং নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রাখা।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ওই অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের বলে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, পশ্চিমা সরকারগুলোর হস্তক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বৈশ্বিক নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণ খুঁজতে হলে পশ্চিমা সরকারগুলোর আচরণের দিকে তাকানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট কোস্তা আঞ্চলিক বিষয়ে ইউরোপের ভূমিকা রাখার আগ্রহের কথা জানান। জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবস্থান মিলিয়ে চলার কারণে ইউরোপীয়রা এ ধরনের ভূমিকা রাখার সুযোগ হারিয়েছে।

এর আগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন পেজেশকিয়ান। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন, আন্তর্জাতিক আইন ও আলোচনা নিয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। স্কুল, ক্রীড়া স্থাপনা, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লামার্দের একটি ক্রীড়া হলে হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে শিশু ও কিশোররা উপস্থিত ছিল এবং ওই হামলায় নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছেন। তার দাবি, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা সন্ত্রাসী নই; আমরা সন্ত্রাসবাদের শিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সামরিক অভিযান আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইরান বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য না করে আত্মরক্ষা করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তেহরানে হামাসের সাবেক নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার ঘটনাটিও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক হামলার অভিজ্ঞতা ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যে দেশ নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, সে দেশ সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

ইরানের সামরিক শক্তি আগ্রাসনের জন্য নয়, প্রতিরক্ষার জন্য, এমন অবস্থান তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের অস্তিত্ব ও উন্নয়ন রক্ষাই এসব সক্ষমতার উদ্দেশ্য। গত ২০০ বছর ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি এবং দেশটির সামরিক কৌশলকে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধনির্ভর বলে বর্ণনা করেন। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত