চীনের চাপের মধ্যেই তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫২ এএম

চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘ ২৬৬ দিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে তাইওয়ানের বিরোধী নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট সরকারের ৯৩ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেট অনুমোদন করেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে পাস হওয়া এই বাজেটে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ড্রোন উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়নও বহাল রাখা হয়েছে।

২০২৪ সালে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর বাজেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর রেকর্ড ২৬৬ দিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে এই বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে।

এর আগে প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি) ড্রোন উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৭০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে উন্নয়ন ও ক্রয় কর্মসূচির মধ্যে অপচয়মূলক কোনো অর্থের পুনরাবৃত্তি নেই বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর দলটি সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে।

তবে বাজেটে অন্যান্য কিছু খাতে কাটছাঁট করা হয়েছে। সরকারি সংস্থার প্রধানদের বিশেষ ভাতা ৬০ শতাংশ, সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গণমাধ্যম নীতি ও প্রচার বাজেট ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

বাজেট পাস হওয়ার আগে পর্যন্ত তাইওয়ান সাময়িক বাজেট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচির অর্থ চালিয়ে আসছিল।

পার্লামেন্টের স্পিকার হান কুও-ইউ বলেন, দীর্ঘদিনের বাজেট অচলাবস্থা সমাজে বিভাজন এবং সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষকে আরও সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে মে মাসে একই বিরোধী নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট সরকারের প্রস্তাবিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট ৩৮ শতাংশ কমিয়ে দেয়। ওই সিদ্ধান্তে তাইওয়ানে তৈরি যুদ্ধ ড্রোনের জন্য বরাদ্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার অর্থ বহাল রাখা হয়েছিল।

তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর কাছে বর্তমানে ৫ হাজারেরও কম ড্রোন রয়েছে। বিপরীতে, চীন চলতি বছর সরবরাহের জন্য প্রায় ১০ লাখ ড্রোনের অর্ডার দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির চারপাশে চীনের সামরিক তৎপরতা ও চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

AM/YA
আরও পড়ুন