তাইওয়ানের জলসীমায় চীনা জাহাজ, নেপথ্যের কারণ

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায় চীন তাদের বিভিন্ন ধরনের জাহাজের মোতায়েন ও সামরিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। তাইওয়ানের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেইজিং প্রায় প্রতিদিনই দ্বীপটির চারপাশে সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং কোস্ট গার্ডের জাহাজ পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসে বেইজিং কর্তৃক পরিচালিত ‘গ্রে জোন হয়রানি’ কার্যক্রমের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ওই এক মাসেই তাইওয়ান ও এর পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোর জলসীমায় কোস্ট গার্ড, উদ্ধারকারী ও গবেষণাকাজে নিয়োজিত অন্তত ২৬৩টি চীনা জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ২০০ এবং আগের বছরের জুনে ছিল ১৭১টি। তবে এই হিসেবের মধ্যে চীনের নিয়মিত যুদ্ধজাহাজগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বেইজিং সম্প্রতি তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় ‘আইন প্রয়োগকারী’ টহল অভিযান শুরু করেছে, যাকে সম্প্রসারণবাদের ছদ্মবেশ ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তাইপেই। পাশাপাশি চীনের নতুন জাতিগত সংহতি আইনের মাধ্যমে সীমানার বাইরে থাকা তথাকথিত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ বিচারের আইনি অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে, যা তাইওয়ানের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চীনা এই মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে গণতন্ত্র রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বেইজিংয়ের ‘লাল সন্ত্রাস’ মোকাবিলা করার তাগিদ দেন।

নিজের বক্তব্যে স্থানীয় তাইওয়ানিজ ভাষা ব্যবহার করে তিনি স্পষ্ট জানান, তাইওয়ান কখনোই চীনের অংশ হবে না এবং মুক্ত জীবনধারা রক্ষায় তারা কোনো আপস করবেন না। অন্যদিকে, চীন বরাবরই প্রেসিডেন্ট লাই-কে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে এবং আলোচনার সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: রয়টার্স

SN
আরও পড়ুন