রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে এবার হেফাজতে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (২৯ আগস্ট) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিকেলে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে, চার খুনের ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘খবরের কাগজ’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে ‘মব’ (উত্তেজিত জনতা) তৈরি করে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠে পার্থ দাসের বিরুদ্ধে।
ডিবি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর গত কয়েক দিন ধরেই বিনয় চন্দ্র ও পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছিল। কিন্তু তারা বারবার ডিবি কার্যালয়ে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। শনিবার বিকেলে পুলিশ তাদের নিয়ে আসতে গেলে পার্থ দাস পুনরায় অস্বীকৃতি জানিয়ে ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের বাড়ি থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সেলিম সরকার জানান, চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে শনিবার বিকেলে তিন সহকর্মীর সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে চাবি কেড়ে নেন।
সেলিমের অভিযোগ, এরপর পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন। উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে পার্থ দাবি করেন, তিনি গলিতে ঢুকেছিলেন এবং তার ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করা হয় এবং স্থানীয় কয়েকজনও তাকে হেনস্তা করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন সেখানে জড়ো হন। পরে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পার্থ দাসের অভিযোগের পর ডিবি সদস্যরা সেলিম সরকারের ব্যাগ খুলে দেখেন। সেখানে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে সমবেত হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে সাংবাদিককে হেনস্তা করেন। কয়েকজন তাকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি উল্টো তাদের সঙ্গে রাগারাগি করেন।
সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস ও তার বাবা বিনয় দাস একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝেমধ্যে তারা উগ্র আচরণও করছেন। তাদের পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলেই তারা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষেপে যাচ্ছেন। তারা চান না সাংবাদিকেরা এখানে এসে কাজ করুন।’
ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছে। পরে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তার ব্যাগ খুলে দেখেন। ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।’
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা তাদের বাসায় গিয়ে বলে এসেছিলাম, আপনারা একটু আসেন; আপনাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। কিন্তু তারা আসেননি। তারা বারবার বলেছেন, আমরা কেন যাব। তারা এখন আমাদের কাছে আছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
হত্যাকাণ্ডে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। বাড়ির সঙ্গে বাড়ি, তার ছেলে ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছে। আমরা তার জিজ্ঞাসাবাদ করব, তারপর সিদ্ধান্ত।’
সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
চুয়াডাঙ্গায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা জানালেন রাশেদ খান
গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইন সংসদে উত্থাপন করা হবে: আইনমন্ত্রী