বেলুচিস্তানে হামলা-পাল্টা অভিযান, নিহত ২৭

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কাস্টমস হাউসে সশস্ত্র হামলা এবং পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ছয় সদস্য ও কাস্টমস বিভাগের এক কর্মকর্তা রয়েছেন। পাল্টা অভিযানে ২১ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করেছে।

আইএসপিআর জানায়, ৩১ আগস্ট রাত থেকে ১ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত বেলুচিস্তানের চাগাই জেলার নোকচা ও পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে মোট ২১ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।

সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ঘটনায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা কুয়েটা-তাফতান মহাসড়কে চলাচল ব্যাহত করতে একটি অবৈধ তল্লাশিচৌকি স্থাপনের চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে অভিযান চালালে তীব্র গোলাগুলি হয় এবং ১১ জন হামলাকারী নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইএসপিআর।

অন্যদিকে জিয়ারাত ক্রস এলাকায় কাস্টমস হাউসে ঢোকার চেষ্টা করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সমন্বিত হামলা চালায় বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে সেখানে তীব্র গোলাগুলি হয়। এতে ১০ জন হামলাকারী নিহত হন বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

কাস্টমস হাউসে হামলার সময় ছয়জন নিরাপত্তা সদস্য ও একজন কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত হন। নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের মধ্যে দুই কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। আইএসপিআর তাদের ‘সাহসী সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া সশস্ত্র সদস্যদের শনাক্ত করা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব অভিযানের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

এর আগে চাগাই এলাকায় কুয়েটা-তাফতান মহাসড়কে যাত্রীদের চলাচল ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ তল্লাশিচৌকি স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায়ও অভিযান চালিয়ে ১১ জন সশস্ত্র সদস্যকে হত্যার কথা জানিয়েছে তারা।

এ ছাড়া রেকো ডিক তামা ও স্বর্ণ প্রকল্পের একটি যানবহরে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ জন এবং ওয়াশুক জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ এবং বেলুচিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে। তবে এসব গোষ্ঠীর পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্যকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র সংঘাত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রদেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত