ইয়েমেনে জুলাই থেকে সংঘাতে ৭৬ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত: জাতিসংঘ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০২ এএম

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় জুলাই থেকে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত এক সপ্তাহেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

শনিবার এক বিবৃতিতে আইওএম জানায়, ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় নতুন মানুষ ঘরছাড়া হচ্ছে এবং সংঘাত তীব্রতর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, পুরো পরিবার রাতের অন্ধকারে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু অনেকের যাওয়ার মতো নিরাপদ কোনো জায়গাও নেই।

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা গত কয়েক দিনেই দ্রুত বেড়েছে। মাত্র এক দিন আগে আইওএম জানিয়েছিল, চলতি মাসের শুরু থেকে ইয়েমেনে ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার ৫০০।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও তাইজ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এর মধ্যে তাইজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রদেশটির বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ পরিবার বা প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়ছে।

বিশেষ করে পশ্চিম উপকূল ও তাইজ এলাকায় সংঘাত তীব্র হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক পরিবার রাতের বেলায় বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আইওএম বলছে, বাস্তুচ্যুতির এই ঢেউ অব্যাহত থাকলে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। ইতোমধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতায় দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

জাতিসংঘের এই সংস্থার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুতির গতি যেভাবে বেড়েছে, তাতে সামনে আরও বড় সংখ্যক মানুষ ঘরছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার প্রয়োজনও দ্রুত বাড়ছে।

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন