যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা অবসানে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে একাধিক শর্ত দিয়েছে ইরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বাঘাই বলেন, তেহরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘আগ্রাসন’ বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক যুদ্ধ বন্ধ এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইও জানিয়েছিলেন, কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের শর্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের সব ফ্রন্টে অবসান, ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড় এবং মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধ—এসব বিষয় আলোচনায় ফেরার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হয়েছে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল দীর্ঘ সময় ধরে পরোক্ষ আলোচনা করেছে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলকে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সমঝোতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ শিথিল করলে তেহরান এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে এ উদ্যোগের বিনিময়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাস্তব পদক্ষেপের নিশ্চয়তা চেয়েছে তেহরান।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই জলপথে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ, জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
কাতার গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দোহার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হরমুজে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সামরিক উত্তেজনা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। ইরান যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার ও সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নিরাপত্তাগত উদ্বেগের কথা বলে আসছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন তাই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমঝোতার নিশ্চয়তা না দিলেও পরোক্ষ আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবারের দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ঘোষণা হয়নি। ফলে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকেই এখন নজর থাকবে।
ভালো ঘুমের জন্য মেনে চলুন এই নিয়মগুলো
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে চাপে পেজেশকিয়ান