শেরপুরে সার কালোবাজারির মামলায় কারাগারে ১৫ ডিলার

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ এএম

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সদর উপজেলার ১৫ সার ডিলারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আসামি করা হয়েছে ২০ জনকে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ১৬ আসামি হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির একজনের জামিন মঞ্জুর করেন। অপর ১৫ আসামির উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া ও মো. বাদশা মিয়া।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন। এর আগে ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শেরপুর শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করে। এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করা হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অধিক মুনাফার আশায় সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ সার কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সারের আনুমানিক মূল্য ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা, ৮২১ টন ডিএপি সারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং ১৩৪ টন টিএসপি সারের মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা। অন্যান্য সারসহ মোট প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার ২০ আসামিই বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাদের মধ্যে ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে একজনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। অপর ১৫ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুল মান্নান বলেন, ২০ আসামির সবাই বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হন। তাদের মধ্যে একজনের জামিনের মেয়াদ বহাল থাকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জনের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত