ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ৪ দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জন জেলে। বর্তমানে তারা রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে সাগরে অবস্থান করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সহায়তা চাওয়া হলে তারা বৈরী আবহাওয়া, নিরাপত্তা ও সক্ষমতার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলে পরিবারের সদস্যরা।
রাজধানীর রামপুরা এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী আলহাজ ফরহাদ পাটোয়ারীর ছেলে জুনায়েত হাসান মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, গত শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ১৮ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান ট্রলারের মাঝি হানিফ মিয়া। পরদিন ভোররাতে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়। এরপর ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়া তার ছেলেকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চান। পরে তিনি (জুনায়েত) ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানান। এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে একাধিকবার কল করে জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
জুনায়েত বলেন, উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়, চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলো প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত নৌযান, জনবল এবং উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কথা জানানো হয়েছে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে।
জুনায়েত বলেন, সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে ট্রলার মাঝি হানিফ মিয়া মুঠোফোনে কল করে উদ্ধারের সহায়তা চেয়েছেন। এরপর তিনিও উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জুনায়েত বলেন, জেলে হানিফ মাঝির সঙ্গে তার বাবা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন।
ট্রলার মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, গত শনিবার সকালে তার বাবাসহ ১৮ জন মাঝিমাল্লা চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। এরপর ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা সাগরে ভাসছেন।
মেহেদী হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তার বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন তিনি। এ সময় তার বাবা তাকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাদের ট্রলারের আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারকে হাত ইশারা করে সহায়তা চাওয়া হলেও সাগর উত্তাল থাকায় তারা এগিয়ে আসেনি। জানা যায়, জেলে হানিফ মিয়ার বাড়ি ভোলা জেলা চরফ্যাশন উপজেলায়।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের কোনো সরঞ্জাম তাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, তাদের টহল দলের বর্তমান অবস্থান রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায়। আর ট্রলারে যারা আছে তাদের ফোন বন্ধ থাকায় বর্তমানে কোন এলাকায় রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ জেলেদের যে মোবাইল নাম্বার পাওয়া গেছে সেটা বন্ধ, নম্বর ব্যাতিত তাদের আপডেট পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সার্বিক বিষয় নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তিনি ভোলা কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। ভোলা কোস্টগার্ডকে জানানোর পর সেখান থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরে তিনি চরমোন্তাজ ট্রলার মালিক সমিতিকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার আনুষাঙ্গিক খরচ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তারাও অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ইনচার্জ মো. জায়েদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো নৌযান, উদ্ধার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই তাদের কাছে নেই। তবে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, বিপদগ্রস্ত জেলেদের মালিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। জেলেদের উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে অবহিত করেছেন তিনি।
শত্রুতার বলি হলো কলাগাছ
জয়পুরহাট সীমান্তে ৫১ লাখ টাকার কষ্টিপাথর উদ্ধার
মদ না দেওয়ায় দোকানকর্মীকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন