আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগের পর দেশটির ১০টি স্থানে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান।
এর আগে আফগান সীমান্ত থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে ইসলামাবাদ। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা আবারও বেড়ে গেল।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার সকালে আফগানিস্তান থেকে আটটি ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে চারটি তোরখাম সীমান্তের কাছে এবং অপর চারটি কোহাটের পার্বত্য এলাকায় ভূপাতিত করা হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, ড্রোনগুলো জনবহুল এলাকায় হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তান জানায়, আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এসব স্থাপনা থেকে তাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছিল। হামলার বিষয়ে আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের করা হামলা বা ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকানোর দাবি করে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাক্তিয়া ও নানগারহার প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ওই অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছিল।
ইসলামাবাদ এসব যোদ্ধাকে ‘ফিতনা-উল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত করে, যে শব্দটি পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান—টিটিপি ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর জন্য ব্যবহার করে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে এসব গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে এবং সেখান থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কাবুল অবশ্য এ ধরনের অভিযোগ নিয়মিতভাবে অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আফগান তালেবান বাহিনী সীমান্তে পাকিস্তানি অবস্থান লক্ষ্য করে মর্টার ও অন্যান্য ভারী অস্ত্র দিয়ে গোলাবর্ষণ করে। জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী আফগান তালেবানের সীমান্ত পোস্ট, মর্টার অবস্থান ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় গোলাবর্ষণ করে।
ভারতে চলন্ত স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯
ইরান যুদ্ধে ১৯ মার্কিন সেনা নিহত