ভারতে চলন্ত স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত একটি স্লিপার পর্যটকবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের জেওয়ার এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাসটি নয়ডা থেকে উত্তরপ্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের ৩৩ কিলোমিটার মাইলস্টোনের কাছে জেওয়ার থানার আওতাধীন এলাকায় হঠাৎ বাসটিতে আগুন ধরে যায়। তবে বাসটির সঠিক গন্তব্য ও যাত্রাপথ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

বাসটিতে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘুমন্ত যাত্রীরা ধোঁয়ায় দমবন্ধ অবস্থায় জেগে ওঠেন। আগুন দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আতঙ্কে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

একজন বেঁচে যাওয়া যাত্রী জানান, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দরজায় ধাক্কার শব্দে তার ঘুম ভাঙে। তখন বাসের ভেতর ইতোমধ্যে ধোঁয়ায় ভরে গেছে এবং যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তিনি কোনো জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগ পাননি; শুধু মোবাইল ফোনটি নিয়ে বাস থেকে বেরিয়ে আসেন।

ওই যাত্রী আরও জানান, বাসের ভেতরে এত বেশি ধোঁয়া ছিল যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ভিড় ও আতঙ্কের কারণে বেরিয়ে আসাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকজন যাত্রী জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।

বাসটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসটিতে বিপুল পরিমাণ যাত্রীদের মালপত্র ছিল এবং কিছু লাগেজ বাসের ছাদেও রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে এসব বিষয় ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শুরু হয় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। আগুনে বাসটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাতের যাত্রায় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকার কারণে স্লিপার বাসে আগুন লাগলে দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এর সঙ্গে ঘন ধোঁয়া, অতিরিক্ত যাত্রী, লাগেজ ও বের হওয়ার পথ নিয়ে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গ্রেটার নয়ডার এই দুর্ঘটনা তাই শুধু প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং দূরপাল্লার স্লিপার ও ডাবল-ডেকার বাসের অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা এবং যাত্রী ধারণক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শেষ হলে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং বাসটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন