যে খাবারগুলো বাড়িয়ে দিচ্ছে আপনার মানসিক চাপ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ এএম

খাদ্যতালিকা থেকে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বা আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড (UPF) খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিলে বিষণ্নতার লক্ষণগুলো উন্নত হতে পারে বলে এক নতুন গবেষণায় তথ্য পাওয়া গেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী জামা সাইকায়াট্রি (JAMA Psychiatry)-তে প্রকাশিত একটি ছোট পরিসরের গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে উচ্চমাত্রার প্রসেসড ফুড গ্রহণের সাথে বিষণ্নতার ঝুঁকির সংযোগ পাওয়া গেলেও, এবার তা কমিয়ে আনার সুফল সম্পর্কে জানা গেল।

গবেষণায় যা দেখা গেছে

গবেষণাটিতে ১৮ থেকে ৮০ বছর বয়সী এমন ২০ জন অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে বিষণ্নতার প্রাথমিক লক্ষণ ছিল এবং তারা নিয়মিত উচ্চমাত্রার প্রসেসড খাবার খেতেন। গবেষণার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে প্রায় ৮৫% আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার বাদ দেন। কম প্রসেসড খাবার খাওয়ার ওই সময়ে দেখা যায়, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং বিষণ্নতার মানদণ্ডেও তাদের স্কোর বেশ কমে গেছে।

সাধারণত সফট ড্রিংকস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ক্যান্ডি, সসেজ, হট ডগ এবং বিভিন্ন ধরনের পেস্ট্রিকে আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার হিসেবে গণ্য করা হয়। এসব খাবারে ফাইবারের ঘাটতি থাকে এবং এতে এমন সব কৃত্রিম উপাদান ও প্রিজারভেটিভ থাকে যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের (Gut microbiome) ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্ত্র বা পরিপাকতন্ত্র আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় সেরোটোনিনের সিংহভাগ তৈরি করে, যা মেজাজ বা মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। প্রসেসড খাবার এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়।

খাদ্যতালিকায় যেভাবে পরিবর্তন আনতে পারেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতারাতি সব ধরনের প্রসেসড খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ধীরে ধীরে ছোট ও টেকসই পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি কমিয়ে আনা সম্ভব। যেমন:

  • প্রতিদিনের মিষ্টি পানীয়ের বদলে পানি বা স্পার্কলিং ওয়াটার বেছে নেওয়া।
  • প্যাকেটজাত স্ন্যাকসের বদলে ফলমূল, বাদাম বা দই খাওয়া।
  • যথাসম্ভব ঘরে রান্না করা খাবার ও আস্ত খাবার (Whole foods) খাওয়া।
  • হিমায়িত শাকসবজি, ক্যানবন্দি মাছ বা শিমের মতো সামান্য প্রক্রিয়াজাত ও পুষ্টিকর খাবারগুলো সুবিধাজনক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্য একটাই—খাদ্যতালিকা একদম নিখুঁত করা নয়, বরং ফাইবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবারের দিকে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হওয়া।

সূত্র: হেলথ লাইন

ওয়াইএ
আরও পড়ুন