যাত্রাবাড়ীতে অপরাধ দমনে পুলিশের চিরুনি অভিযান, গ্রেপ্তার ১৯

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার ও ব্যস্ততম এলাকা যাত্রাবাড়ীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। শনিবার দিনব্যাপী থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ পয়েন্টে চালানো এই আকস্মিক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন।

রোববার (২১ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীকে অপরাধমুক্ত রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রুখে দিতে ডিএমপির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়।

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকার কিছু স্পটে চুরি, ছিনতাই এবং মাদক কেনাবেচার মতো অপরাধের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের দমনে শনিবার ভোর থেকেই থানার একাধিক টিম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সন্দেহভাজন আস্তানা ও বস্তি এলাকায় একযোগে তল্লাশি শুরু করে। দিনভর চলা এই অভিযানে একে একে জালে ধরা পড়ে ১৯ জন অপরাধী।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় প্রকাশ করে পুলিশ জানিয়েছে, তারা হলেন মো. মোশারফ হোসেন, মো. রাসেল, মো. খলিল মিয়া, মো. রিশাদ, রুহী আক্তার, তৌসিফ, মো. নাসির, মো. মাসুদ রানা ওরফে রনি, মো. বিল্লাল ভূঁইয়া, মো. শুভ, মো. শাহীন কাউছার, মো. বেলাল হোসেন, ফেরদৌস কামাল, মোসা. রাশেদা বেগম, রোকসানা বেগম, মো. সাদ্দাম, মো. দিদারুল আলম টিপু, মো. ইউসুফ মজুমদার ও মো. শফিউল আলম। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারীও রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধ চক্রের সাথে সখ্য বজায় রেখে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের সবাই সাধারণ অপরাধী নন। তাদের মধ্যে যেমন নিয়মিত দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয় আসামি রয়েছে, ঠিক তেমনি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়ানো আদালতের পরোয়ানাভুক্ত বা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক অপরাধীও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল।

যাত্রাবাড়ী থানার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যাত্রাবাড়ী এলাকাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার দূরপাল্লার যানবাহন ও মানুষ রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করে। এই সুযোগে কিছু ভাসমান ও স্থানীয় অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। এবারের অভিযানে শুধু ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদেরই ধরা হয়নি, বরং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধের আঁতুড়ঘরগুলোতে হানা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বের মামলার পাশাপাশি নতুন কোনো অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিবি পুলিশও কাজ করছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের এই ধরনের বিশেষ ও আকস্মিক অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপরাধী বা গ্যাং কালচারকে ঢাকার মাটিতে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এদিকে, শনিবারের এই সফল অভিযানের পর গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আজই তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন