রাজধানীর হলি আর্টিসান বেকারি -এ সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক দশক পূর্ণ হলো আজ, ২০২৬ সালের ১ জুলাই। ২০১৬ সালের এই দিনে গুলশান কূটনৈতিক এলাকায় হামলা চালিয়ে ২২ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ -এর নব্য অংশের সদস্যরা। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকসহ বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন, যা ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত ও নিন্দিত করে তোলে।
হামলা শেষে পরদিন সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত 'অপারেশন থান্ডারবোল্ট অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয় এবং জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জন জিম্মিকে। ঘটনার পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট রায়ে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ১৭ জুন। রায়ে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও সহায়তার মাধ্যমে হামলায় সম্পৃক্ততা প্রমাণিত বলে উল্লেখ করা হয়।
রায়ের পর আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জীবিত ছয় আসামি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। বর্তমানে আবেদনগুলো শুনানির তারিখ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে, ফলে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো অনিশ্চিত।
এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলবে।
ঘটনার এক আসামি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগারে পালানোর চেষ্টার সময় নিহত হন। ফলে বর্তমানে ছয় আসামির আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। হামলাটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
যানজট নিরসনে সরকারে নতুন উদ্যোগ
পূর্বাচলে আলাদা পুলিশ বিভাগ গঠনের ঘোষণা আইজিপির