কয়েকদিনের লুকোচুরির পর গতকাল বুধবার কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সূর্যের দেখা মিলেছিল। এতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আজ বৃহস্পতিবার আবারও আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে ফের শীতের প্রকোপ বাড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার কিছু এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
এদিন সকাল থেকেই দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে গেছে চারদিক। ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়কেও যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক মানুষ, রোগী ও খেটে খাওয়া মানুষজন। শীতের তীব্রতায় অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না। এতে দৈনন্দিন আয়ে প্রভাব পড়ছে শ্রমজীবী মানুষের। বাজারগুলোতেও উল্লেখযোগ্যহারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মুখলেসুর রহমান বলেন, কয়েকদিনের শীত-তাণ্ডব শেষে গতকাল সূর্য উঠেছিল। মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে আজকে আবারও সূর্যের দেখা নেই। হালকা ঠান্ডা বাতাসে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিশা আফরিন লাইজু বলেন, গত কিছুদিন ধরে তীব্র শীতের কারণে পড়াশোনাও ব্যাহত হয়েছে। গতকাল সূর্যের দেখা পেয়ে ভেবেছিলাম শীতের তীব্রতা অনেকটা হয়ত কমে আসবে, কিন্তু আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আবারও সূর্য লুকিয়ে গেছে। সকাল থেকেই কনকনে শীত বইছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, গত কিছুদিন আগে থেকে পড়া তীব্র শীতে স্বাভাবিক জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষের সঙ্গে সঙ্গে পশু পাখিরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে শিশুদের অসুস্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সহকারী শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, গতকাল যেভাবে সূর্য উঠেছিল মনে হয়েছিল শীতের তীব্রতা হ্রাস পাবে। কিন্তু আজকে ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। মানুষ শীতে কষ্ট পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছে।
