দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশি টহলে গিয়ে দেখলেন, নিহত শিশুটি তারই ছেলে

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

একটি অজ্ঞাত ফোনকল। খবর—সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এমন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অন্য দিনের মতোই দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ছুটে যায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার একটি টহলদল। টহলদলের গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন পুলিশ সদস্য শামসুল হক। কিন্তু তিনি জানতেন না, যাকে উদ্ধারে যাচ্ছেন, সেই নিথর শিশুটি তার নিজের বুকের ধন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘটে হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনা।

নিহত মোহাম্মদ তুহিন (১০) কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকের ছেলে। সে স্থানীয় গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন জানান, সকালে থানায় একটি অজ্ঞাত ফোনকল আসে। জানানো হয়, জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই একটি টহলদল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সেই টহলগাড়ির চালকের আসনে ছিলেন শামসুল হক।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহকর্মীদের সঙ্গে তিনিও এগিয়ে যান। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তার পৃথিবী যেন থেমে যায়। রাস্তার ওপর ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে পড়ে থাকা শিশুটিকে দেখে তিনি বুঝতে পারেন—ওই শিশুটি আর কেউ নয়, তার নিজের ছেলে তুহিন। কর্তব্য পালন করতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্য মুহূর্তেই হয়ে ওঠেন অসহায় এক বাবা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় বের হয়েছিল তুহিন। কিছুক্ষণ পর একটি দ্রুতগতির সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্কুলের বই-খাতা আর স্বপ্নগুলো রেখে ছোট্ট তুহিনের জীবন থেমে যায় রাজপথেই।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঞা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

MCH/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত