আগুনে ৫টি গাভীসহ গোয়ালঘর ভস্মীভূত

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় দীর্ঘদিন ধরে পাঁচটি দুধেল গাভী লালন-পালন করছিলেন কৃষক উৎসব বাইন। গরুগুলোকে ঘিরেই ছিল তার পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। ভীর রাতে আগুনে গোয়ালঘরসহ পাঁচটি গাভী পুড়ে মারা যাওয়ায় মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন ছাই হয়ে গেছে। হারিয়েছেন পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বড় ডুমুরিয়া গ্রামে উৎসব বাইনের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর গোয়ালঘরে থাকা বৈদ্যুতিক ফ্যানের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোয়ালঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই গোয়ালঘরে থাকা পাঁচটি দুধেল গাভী পুড়ে মারা যায়। আগুনে গোয়ালঘরটিও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে চরম হতাশা। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও শ্রম দিয়ে গড়ে তোলা গরুর খামারটি হারিয়ে এখন দিশেহারা উৎসব বাইন।

উৎসব বাইন বলেন, অনেক কষ্ট করে পাঁচটি গরু লালন-পালন করেছি। সারা জীবনের জমানো অর্থ ও শ্রম দিয়ে ছোট একটি খামার গড়ে তুলেছিলাম। গরুগুলোই ছিল পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। কিন্তু রাতের আগুনে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, গরুগুলোকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করতেন। চোখের সামনে সেগুলো পুড়ে গেলেও আগুনের কারণে কিছুই করতে পারেননি। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ করবেন, তা তিনি জানেন না।

ক্ষতিগ্রস্ত উৎসব বাইন তার পরিবারের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত