রাজশাহীতে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা আটক

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

রাজশাহীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহবুব আলম নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এক নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফ্ল্যাটের দরজা খুলে তাদের বের করে আনা হয়। পরে দুজনকে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে আন্নি আক্তার নামে এক নারী ওই ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে ভেতর থেকে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে এক নারীকে বের করে আনেন।

আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী দাবি করেছেন। অন্যদিকে ফ্ল্যাটে থাকা সানজিদা মৌকে মাহবুব আলম নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তার দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজও পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ হাতে পাননি।

আন্নি আক্তার নওগাঁর বাসিন্দা এবং নিজেকে নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকার সময় একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়ে জড়িয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আন্নি জানায়, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সঙ্গে দেখেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে খবর পান, মাহবুব নাদের হাজির মোড়ের একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে গেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তিনি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন।

আন্নি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়নি। পরে তার দেওয়া খবরের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা খুলে দেন। এরপর ভেতর থেকে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে বের করে থানায় নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাতা বসবাস করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেখানে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন।

সানজিদা মৌ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। তবে মাহবুব আলম তাকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে আন্নি নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করেছেন। এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মাহবুব আলমের চাকরিজীবন নিয়েও এর আগে আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালে তিনি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

এদিকে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অনুমতি ছাড়াই মাহবুব আলম রাজশাহীতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ। 

তিনি বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং রাজশাহীতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি কাউকে অবহিতও করেননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গের আওতায় পড়ে। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ কর্মকর্তা ও ওই নারীকে বের করে থানায় নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এম.সি. এইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত